টাঙ্গাইলে অ্যাম্বুলেন্স-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত ১০
বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া নামক স্থানে অ্যাম্বুলেন্স ও মাছবাহী পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংর্ঘষে একই পরিবারের তিন নারীসহ ৫ জন নিহত ও ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। শনিবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেতুর ১১নং ব্রিজের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) সাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের স্বজন আহত মো. মারুফ জানান, ক্যান্সারের রোগী ফরিদা বেগমকে কেমো থেরাপি দেওয়ার জন্য পরিবারের চার নারী সহ পাঁচ সদস্য অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরস্থ খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কে হাতিয়া নামকস্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি (ঢাকা-৭১৭/শ) পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যানের (ঢাকা মেট্রো-ন-২১-১২৬৯) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্স চালক সাদ্দাম, ক্যান্সারের রোগী ফরিদা বেগম ও ফেরদৌসী বেগম নিহত হন।
দুর্ঘটনায় আহতরা হচ্ছেন ক্যান্সারের রোগী ফরিদা বেগমের স্বজন ও চট্টগ্রাম ইপিজেডের ত্রিপোর্ট এলাকার মাহবুব আলমের ছেলে মো. মারুফ (১৬), ক্যান্সার রোগীর মেয়ে মাহিয়া (৮), পিকআপ ভ্যানের চালক মো. আল আমিন (৩৫), শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার রৌহা বেপারী পাড়া গ্রামের মাছের বেপারী নুর রহমান (৪৫), মারফত (২৮), গাজিপুর জেলার জয়দেবপুর উপজেলার দীঘির চালা এলাকার সোবহান মার্কেটের বাসিন্দা আ. রাজ্জাকের তিন ছেলে মাছের বেপারী কবির (৪০), বাদশা (২০) ও রায়হান (২২)।
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানান, ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। অ্যাম্বুলেন্সটি বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কে কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া নামকস্থানে পৌঁছলে বিপরীতদিক থেকে আসা ঢাকাগামী মাছবাহী একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্স ও পিকআপ ভ্যানটি দুমরে-মুচরে যায়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের চালক সহ তিন জন ঘটনাস্থলে নিহত হন। দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স ও পিকআপ ভ্যানে থাকা আরও ১০ যাত্রী আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সের সহকারী এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও এক নারীর মৃত্যু হয়।
বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানার পুলিশ পরিদর্শক(ওসি-তদন্ত) সাহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ, বিবিএ’র টহল টিম ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। হতাহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত অ্যাম্বুলেন্স ও পিকআপ ভ্যানটি রেকার দিয়ে সরানোর পর মহাসড়কে অতি জরুরি যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
