মনপুরায় তুলে নিয়ে দলবেঁধে কিশোরীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ৩
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৫ বছরের এক কিশোরী।
এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হচ্ছে শাকিব, করিম, জোবায়ের। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে।
ধর্ষিতা কিশোরীর আত্মীয় স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ঈদুল আযহার সময় ঢাকা থেকে মনপুরায় খালার বাড়িতে বেড়াতে আসেন ১৫ বছরের এক কিশোরী।
তার পর থেকে কিশোরী মনপুরা তার খারার বাড়িতেই ছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১০ টায় কিশোরী খালুর বাড়ি থেকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়।
ওই সময় আগ থেকে উৎপেতে থাকা শাকিব, শামিম, জোবায়ের, করিম ও রুবেল কিশোরীর মুখ চেপে মোটরসাইকেল যোগে তুলে নিয়ে যায় মনপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ৪ তলা ভবনের দোতলায়।
সেখানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে কিশোরীকে। পরে ফের মোটরসাইকেলযোগে হাত, পা ও মুখ বেঁধে নিয়ে যায় মনপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনে।
সেখানে নিয়ে ফের ধর্ষণসহ পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। ভোর হওয়ার সাথে আটককৃত তিন আসামী ও পলাতক দুই আসামী ওই কিশোরীকে হাত, পা বাঁধা অবস্থায় রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে।
তবে ধর্ষণের ঘটনাটি প্রথমে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার পুলিশ জানতে পারলে ধর্ষিত কিশোরীকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এসে ধর্ষনের সাথে জড়িত আসামীদের ধরতে রাতভর অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করে।
তবে এই ঘটনায় জড়িত ও মামলার আসামী দুইজন পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন জানান, সোমবার কিশোরীকে তুলে নিয়ে কয়েকজন মিলে ধর্ষন করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার পুলিশ খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করে।
শুক্রবার বিকালে এ ব্যাপারে মনপুরা থানায় ৫ জনকে আসামী করে মামলা কয়েছে।
এর মধ্যে আটককৃতদের মধ্যে তিনজনকে শানাক্ত করায় মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মামলার পলাতক অপর দুই আসামী ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া শনিবার সকালে ধর্ষিতা কিশোরীরর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ভোলা সদরের ২৫০ শয্যার জেনারেফ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
