১৭টি বছর ৩টি অত্যন্ত বাজে ও ভুল বিয়ের পেছনে নষ্ট করেছি
আমি প্রায়ই আমার একমাত্র ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলি— বাবা, আমি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ১৭টি বছর ৩টি অত্যন্ত বাজে ও ভুল বিয়ের পেছনে নষ্ট করেছি! আজ আমি যদি একটু বুদ্ধি খাটাতাম, তবে অন্যের পেছনে নিজের জীবনটা এভাবে ধ্বংস না করে নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার আর নিজের আত্মউন্নয়নে মন দিতে পারতাম।
৪৪ বছর বয়সে এসে নিজের অতীত দাম্পত্য জীবনের একের পর এক ক্ষত আর ট্র্যাজেডি নিয়ে এভাবেই ক্যামেরার সামনে ডুকরে কেঁদে উঠলেন ভারতের দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী মীরা বাসুদেবান!
রুপালি পর্দার আলোর ঝলকানি আর কোটি ভক্তের করতালির আড়ালে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন যে কত বড় একটা মরীচিকা, তার এক জীবন্ত এবং অত্যন্ত করুণ উদাহরণ হলেন মীরা। ২০০৩ সালে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মিলিন্দ সুমনের বিপরীতে ‘রুলস: পেয়ার কা সুপারহিট ফরমুল’ সিনেমার মাধ্যমে বিনোদন জগতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন এই রূপসী অভিনেত্রী।
এরপর মালয়ালম সিনেমায় নিজের একচ্ছত্র রাজত্ব তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে সুপারস্টার মোহনলালের সঙ্গে তার ‘থানমাথরা’ সিনেমার অনবদ্য অভিনয় আজও সিনেপ্রেমীদের চোখে জল এনে দেয়। কিন্তু পর্দায় যিনি সবাইকে ভালোবাসার গল্প শোনাতেন, বাস্তব জীবনে তার কপালেই জোটেনি খাঁটি ভালোবাসা ও সম্মান!
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ধন্যা বর্মাকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ ও বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের অন্ধকার অধ্যায়গুলো কোনো লুকোছাপা ছাড়াই সবার সামনে মেলে ধরেছেন মীরা। আক্ষেপের সুরে এই অভিনেত্রী জানান, জীবনের দীর্ঘ ১৭টি বছর তিনি এমন কিছু মানুষের পেছনে ও সম্পর্কের পেছনে অপচয় করেছেন, যেখানে তাকে কখনোই একজন মানুষ হিসেবে ন্যূনতম গুরুত্ব বা সম্মানটুকু দেওয়া হয়নি।
নিজের এই দীর্ঘ একাকীত্ব আর ভুল সিদ্ধান্তের খতিয়ান দিতে গিয়ে মীরা বলেন:-আমি জীবনে আরও অনেক বড় কিছু অর্জন করতে পারতাম, যদি সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতাম। সিনেমা, ফিটনেস কিংবা নিজের জন্য একটা সুস্থ সামাজিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে পারতাম। বাবা, মা আর আদরের বোনের সঙ্গে কত চমৎকার সময় কাটাতে পারতাম! কিন্তু তার বদলে আমি অন্ধের মতো নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলাম এমন কিছু মানুষের জন্য, যারা আমার ত্যাগের কোনো মূল্যই দেয়নি।”
মীরার জীবনের ৩টি ব্যর্থ বিয়ের খতিয়ান: অনুসন্ধানে জানা যায়, মীরার এই ট্র্যাজেডির শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক অশোক কুমারের ছেলে বিশাল আগারওয়ালের সঙ্গে প্রথমবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
কিন্তু মাত্র ৫ বছরের মাথায় ২০১০ সালের জুলাই মাসে সেই সম্পর্কের নির্মম ইতি ঘটে। এরপর একাকীত্ব দূর করতে ২০১২ সালে মালয়ালম অভিনেতা জন কোক্কেনকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন মীরা। এই সংসারে তাদের একটি ফুটফুটে ছেলেসন্তানও জন্ম নেয়। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, ২০১৬ সালে ভেঙে যায় মীরার দ্বিতীয় সংসারও।
এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর একা থাকার পর, থিতু হওয়ার শেষ চেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের মে মাসে চিত্রগ্রাহক ভিপিন পুথিয়ানকমের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ৪৪ বছর বয়সী মীরা। কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায়, ২০২৫ সালের আগস্টে এই
তৃতীয় সংসারটিও চিরতরে তছনছ হয়ে যায় মীরার।
তবে বারবার আছাড় খেয়েও মীরা এখন আর ঘরে বসে কাঁদতে রাজি নন। তিনি চলতি বছরের শুরুতে অন্য একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি ভুল করেছি, আর সেটা দুনিয়ার সামনে স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা বা লজ্জা নেই। এখন অতীতকে আঁকড়ে ধরে বসে থাকার সময় আমার নেই। আমি আমার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে, আমার ক্যারিয়ার নিয়ে এখন ভীষণ ব্যস্ত এবং জীবনের এই সুন্দরতম পর্যায়ে আমি মানসিকভাবে অনেক বেশি শান্তিতে ও সুখে আছি।”
‘উরুভান’, ‘একানথাম’, ‘কুট্টামামা’র মতো কালজয়ী সিনেমার এই অভিনেত্রীর জীবন থেকে আমাদের সমাজের প্রতিটি নারীর কি অনেক বড় কিছু শেখার নেই?
একটা ভুল সম্পর্কে বছরের পর বছর আটকে থাকার চেয়ে সময়মতো সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা কি বেশি জরুরি নয়?
মীরা বাসুদেবানের এই সাহসিকতা এবং অতীতকে ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি আপনার কেমন লাগলো? কমেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। আর নারীদের আত্মবিশ্বাস।
