ব্রেকিং নিউজঃ

লোকসানের ধাক্কায় আগামীতে পেঁয়াজ আবাদে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে কৃষক

লোকসানের ধাক্কায় আগামীতে পেঁয়াজ আবাদে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে অনেক কৃষক। এবার দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরের জেলাগুলোতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। কারণ পেঁয়াজের দামে বড় ধরনের ধস নামায় কৃষকরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না। বরং প্রতি মণে পেঁয়াজে গড়ে প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। অথচ অনুকূল আবহাওয়া এবং হাইব্রিড জাতের আবাদ বৃদ্ধির কারণে এবার কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রাজশাহী ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তার বাইরে নাটোর ও মেহেরপুরেও উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পেয়ে পেঁয়াজে ব্যাপক লোকসানে কৃষকরা হতাশ। ফলে আগামী মৌসুমে ফসলটির চাষে কৃষকরা অনাগ্রহী হতে পারে। কৃষক এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা হয়। আর তাতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৯ লাখ টন পেঁয়াজ। সারা দেশে মোট প্রায় ৩২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। আর দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫-৩৬ লাখ টন। এবারো পাবনা হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা। সেখানে ৪৫ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তারপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফরিদপুর, সেখানে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৬ লাখ টন উৎপাদন হয়েছে। মূলত পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রাজশাহী, নাটোর ও মেহেরপুর থেকে দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক আসে। বর্তমানে দেশের ৭টি জেলায় স্থাপিত ২৮৫টি মডেল পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘরে মজুদ রয়েছে প্রায় ১০ হাজার টন পেঁয়াজ।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চে যেখানে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ছিল ১ হাজার টাকার বেশি, বর্তমানে মানভেদে পেঁয়াজের দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় নেমে এসেছে। কিন্তু উৎপাদন, পরিচর্যা, সেচ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে কৃষকের উৎপাদন খরচও উঠছে না। পাশাপাশি বেড়েছে সংরক্ষণ ব্যয়ও। কারণ পেঁয়াজ ভালো রাখতে সার্বক্ষণিক ফ্যান চালাতে হয়। আর তাতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল। মূলত উৎপাদন পরিকল্পনার অভাব, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই প্রতি বছর পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আর এ ধারা অব্যাহত থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই পেঁয়াজ উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে কৃষক। আর তখন তখন বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারি পর্যায়ে সংরক্ষণ সুবিধা সমপ্রসারণ, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পেঁয়াজ সংগ্রহ এবং বাজার তদারকি জোরদারের বিকল্প নেই।

এদিকে এ বিষয়ে রাজবাড়ী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শহিদুল ইসলাম জানান, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় কমে গেছে দাম। পাশাপাশি পর্যাপ্ত হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাবে দীর্ঘদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পচনের আশঙ্কায় কৃষকরা দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে আশা করা যায় বাজার পরিস্থিতি সামনে উন্নতি হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

September 2026
F S S M T W T
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930