রংপুরে কথিত জীনের বাদশা চক্রের চার প্রতারক গ্রেফতার
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কথিত জিনের বাদশা চক্রের ৪ প্রতারককে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে। গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এসময় এদের নিকট থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, টাকা ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটি সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোনে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
আটককৃতরা হচ্ছে, রিয়াদ হাসান রকি ওরফে রায়হান (২০), সিদ্দিকুল ইসলাম (৩৫), আজহার আলী শেখ (৩২) ও রফিকুল ইসলাম ওরফে রিপন (৪৫)। এরা সবাই গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক কানপুর, নাকাই ও বাজুনিয়াপাড়া গ্রামের অধিবাসী।
শুক্রবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রতারক চক্রটির এই চার জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আরপিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান।
তিনি জানান, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শফিকুল ইসলামকে গভীর রাতে মোবাইল ফোনে ইসলামিক আলাপচারিতায় ভাগ্য পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলায় কথিত জীনের বাদশা চক্রের ঐ প্রতারকরা।
তারা বিভিন্ন সময়ে ফোনের মাধ্যমে ঐ ব্যক্তির নিকট থেকে ৬ মে থেকে কয়েক ধাপে ১ লাখ ৮ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। এনিয়ে বুধবার মাহিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিষয়টি গুরুত্বে নিয়ে অভিযোগের প্রকৃত রহস্য উম্মোচন ও জড়িতদের শনাক্তে ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হয় বলে জানান ঐ পুলিশ কর্মকর্তা।
এর সূত্র ধরে গত ২৮ মে বৃহস্পতিবার সহকারী পুলিশ কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) ফারুক আহমেদ এর নেতৃত্বে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সারাদিন অভিযান পরিচালনা করে ওই চারজনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সাথে নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তারা। কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান জানান, এই প্রতারক চক্রটিসহ গাইবান্ধা জেলার শত শত প্রতারক চক্র প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানান শ্রেণী-পেশার মানুষকে প্রতারিত করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
তাদের প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। বিশেষ করে নিরক্ষর, অসচেতন ও মহিলারা তাদের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরদের এজেন্ট ও ডিষ্ট্রিবিউটরদের সহযোগিতায় ভুয়া সিম সংগ্রহ করে রমরমাভাবে এই প্রতারণার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে কথিত এই জীনের বাদশা চক্রের সদস্যরা।
