ব্রেকিং নিউজঃ

(পব-২)

ভোলার মদনপুর চরে ভুমিদস্যু নান্নু চেয়ারম্যানের হাতে কয়েকশ পরিবার জিম্মি

ভোলার কোলঘেষে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা মদনপুর চরে ভুমিদস্যুতা,চাঁদাবাজি, মামলাবাজি এবং জাল দলিলে হাজার হাজার একর জমি জবর দখলসহ একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে শত শত কৃষক এবং রেকর্ডীয় জমির মালিকদের জিম্মি করে রেখেছে আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন ওরফে ভুমিদস্যু নান্নু চেয়ারম্যান।

অভিযোগ আছে মামলা হামলায় পর্যুদস্ত করে রেকর্ডীয় জমির মালিক এবং কৃষকদের নিজেদের জমিতেও চাষাবাদ করতে দিচ্ছেনা চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীর প্রধান বেলায়েত। চেয়ারম্যানের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা ভুক্তভোগীরা। ফলে চেয়ারম্যানের ভুমিদস্যুতা এখন বেপরোয়া। আর এসব করে চেয়ারম্যান নান্নু কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রায় কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে জানাগেছে। সরেজমিন ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মদনপুর চর বৈরাগীয়া শিকস্তী ভূমি মালিক সমিতির সদস্য মাহামুদুল হক অভিযোগ করে জানান, চর বৈরাগিয়া মৌজার প্রায় চার হাজার একশ একর নাল জমির আমিসহ আরো অনেক লোকজন রেকর্ডীয় মালিক বিদ্ধমান থাকা স্বত্বেও জেগে ওঠা নতুন চরের জমি নাছির উদ্দিন নান্নু চেয়ারম্যান ও তার পালিত সন্ত্রাসী বেলায়েত বাহিনী জোরপূর্বক দখল করে নিয়ে গেছে।

নান্নু ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীর মামলা হামলা ও হুমকির কারণে আমাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারি না। শুধু তাই নয়,জমির সীমানার আশে পাশে গেলেও আমাদেরকে খুন করে লাশ বস্তায় ভরে মেঘনা নদীতে

ভাসিয়ে দিবে বলে ক্যাডার বেলায়েত হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন তালুকদার অভিযোগ করে জানান, ওই চরে আমরা ১৫ গন্ডা জমির মালিক অথচ নান্নু চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডার বেলায়েত আমাকে কোন জমি চাষ করতে দিচ্ছে না। পেটের দায় বাধ্য হয়ে বেলায়েতকে ছয় হাজার টাকা দিয়ে আমার জমি চাষ করেছি।

ভুক্তভোগী আব্দুল হক ফরাজী (৭৫) অভিযোগ করে জানান, এ চরে আমাদের ১০ কানি জমির রয়েছে, অথচ এই ভূমিদস্যু নান্নু চেয়ারম্যান তার ক্যাডার বেলায়াত বাহিনী দিয়ে চরে এরকম সন্ত্রাস কায়েম করেছে যে, আমি ১ গন্ডা জমিও চাষ করতে পারছি না।

আরেক ভুক্তভোগী মামুন (৩০) অভিযোগ করে জানান, নান্নু চেয়ারম্যান ও বেলায়েত আমাকে ১০ একর জমি দিবে বলে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছে , অথচ আজ পর্যন্ত আমাকে কোন জমি তো দেয়নি আমার টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। এছাড়াও আমার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ৬০ হাজার টাকা দাম করে বেলায়েত নিয়ে যায়।

মোটরসাইকেলের টাকা ও জমি বাবদ নেওয়া ৩ লক্ষ টাকা আজ পর্যন্ত আমাকে বুঝিয়ে দেয়নি। আমি টাকা চাইতে গেলে সন্ত্রাসী বেলায়েত আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

এদিকে নান্নু চেয়ারম্যান তার ক্যাডার বেলায়েত ও সিরাজ কসাইর বিরুদ্ধে ভুমিদস্যুতার পাশাপাশি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে সুবিধাভোগীর কাছ থেকে ৩ হাজার, ৪ হাজার, ৫ হাজার ও ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম (৩০) জানান, বেলায়েত আমার কাছ থেকে একটি।ঘরের জন্য ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। একই অভিযোগ করে কবির হোসেন জানান, একটি ঘরের জন্য আমাকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া লাগছে বেলায়েতকে। দুলাল হাওলাদার (৫১) জানান, দুটি ঘরের জন্য আমার কাছ থেকে বেলায়েত ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। অপরদিকে সিরাজ কসাই আবাসনের ১০টি ঘর দখল করে ওই ঘরে গরু, ছাগল পালন করছে। একইভাবে বেলায়েত ও তার আত্মীয়স্বজনরা আবাসনের ঘরগুলো দখল করে রেখেছে।

এদিকে নান্নু চেয়ারম্যানের অপকর্মের বিচার চেয়ে কয়েকদফা মানববন্ধন,জেলা প্রশাসক ও দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট শত শত কৃষক লিখিত অভিযোগ দিয়েও তারা কোন প্রতিকার পায়নি।

ফলে ভুক্তভোগী কৃষক ও রেকর্ডীয় জমির মালিকগন ভুমিদস্যু নান্নু চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে জরুরি ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাছিরউদ্দিন নান্নু,বেলায়েত হোসেনসহ অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এসব ঘটনার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

April 2026
F S S M T W T
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930