শাহানাজ পারভীন শিউলি
অনন্তকাল
একলা ঘরে বসে খুলেছি জানালা দেখেছি মুক্ত আকাশ, যখন আসলে ঘরে দিয়েছি পাঁজর খুলে করেছি হৃদে প্রকাশ।
আঘাতের চিহ্ন নিয়েও চলতে শিখেছি বক্ষের ছাতি খুবলে খাইনি পাহাড়ের চুড়ায় আবদ্ধ গুহার মধ্যে এক রত্তি লুকিয়ে ছিল রশ্মি, অন্ধকারে দেখেছি মুক্ত আকাশের শশী।
বলেছিলে সৌন্দর্য যেন মনের আয়না,
তাই ক্ষত বিক্ষত করে ধরেছো হৃদে বায়না।
বলেছিলে মুগ্ধতা যেন মনের জানালা,
দিনে রাত্রীতে বসে হাতে ছিল পানির পেয়ালা।
আরও বলেছিলে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলায় হলো
তোমার হাসির ঢেউ খেলানো মানচিত্র।
শত কষ্ট পেয়েওতোমার বাহুতে লেপটে পড়ি এখনো
এটাই বসন্তের শেষ সম্বল একমুঠ বিকেল নিয়ে তোমার আমার চিত্তের বৃত্ত।
কে বলে গো তোমার আমার বসন্ত হবে না মুক্ত?
আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেই বসন্তের আগমনে শিমুল পলাশ রাঙিয়ে দোলে এখনো তোমায় আমায় করে যুক্ত।
আবারও আপন মনে বাঁধন বেঁধে
বলেছিলে, কে নিবে আমায় থেকে তোমায়?
আমি নীল গগন তোমার ঠান্ডা গরম পবন।
আমি খঞ্জর খুঁজি অন্তর দেখি সীমাহীন সুখের প্রান্তর।।
আমি নীল গগন।।
তুমি মোর আত্মার অস্তিত্বে আমৃত্যু ঘটনায় শুধু অপেক্ষার বসন্ত। নেই কোন তিক্ততা তোমায় খুঁজি অনন্ত।
আমি অভিশাপের স্তুপ, তুমি আমার চন্দ্র হাসির রুপ।
তুমি যা পাবে কেউ তা পাবে না অনন্তকাল।
মৃত্যুর অবসান ঘটিয়ে আবারও আপন মনে বাঁধন বেঁধে
তোমায় খুঁজে যেন পাই -দেখবো নতুন সকাল।
আমি তোমায় খুঁজি অনন্তকাল।
