ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় নবীর দিদার

মোমিন হৃদয়ের একান্ত আশা, যদি সবকিছুর বিনিময়ে হলেও প্রিয়নবী (সা:)-কে জীবনে একনজর দেখতে পেতাম! যে নবীকে (ইমানের চোখে) একবার দেখবে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।

(তিরমিজি) প্রিয় রসুল (সা.)-এর পবিত্র আকার-আকৃতি অনেক সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আলী (রা.) যখনই প্রিয়নবী (সা:)-এর দেহের বর্ণনা দিতেন, তখন বলতেন, তিনি অত্যধিক লম্বাও ছিলেন না এবং একেবারে বেঁটেও ছিলেন না; বরং ছিলেন লোকদের মধ্যে মধ্যমাকৃতির।

তাঁর মাথার চুল একেবারে কোঁকড়ানো ছিল না এবং সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না; বরং মধ্যম ধরনের কোঁকড়ানো ছিল।তিনি অতি স্থূলদেহী ছিলেন না এবং তাঁর চেহারা একেবারে গোল ছিল না; বরং লম্বাটে গোল ছিল।

গায়ের রং ছিল লাল-সাদা সংমিশ্রিত। চোখের বর্ণ ছিল কালো, পলক ছিল লম্বা ও চিকন।

হাড়ের জোড়াগুলো ছিল মোটা। পুরো দেহ ছিল পশমহীন, অবশ্য পশমের চিকন একটি রেখা বুক থেকে নাভি পর্যন্ত লম্বা ছিল। দুই হাত ও দুই পায়ের তালু ছিল গোশতে পরিপূর্ণ।

যখন তিনি হাঁটতেন তখন পা পূর্ণভাবে উঠিয়ে মাটিতে রাখতেন, যেন কোনো উঁচু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন। যখন তিনি কোনো দিকে তাকাতেন তখন ঘাড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে তাকাতেন।

তাঁর উভয় কাঁধের মাঝখানে ছিল মোহরে নবুয়ত বা নবী হওয়ার মোজেজার অলৌকিক নিদর্শন। তিনি সর্বশেষ নবী।

তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অধিক দানশীল, সবচেয়ে বেশি সত্যভাষী। তিনি ছিলেন সবচেয়ে কোমল স্বভাবের এবং বংশের দিক থেকে সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদার অধিকারী। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত, সে ভয় পেত (গুরুগম্ভীরতার কারণে)।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পরিচিত হয়ে তাঁর সঙ্গে মিশত, সে তাঁকে অনেক ভালোবেসে ফেলত। নবী করিম (সা.)-এর গুণাবলি বর্ণনাকারী এ কথা বলতে বাধ্য হন যে, আমি তাঁর আগে ও পরে তাঁর মতো কাউকে কখনো দেখতে পাইনি। তিরমিজি।

হজরত হাসান বিন আলী বলেন, আমার মামা হিন্দ বিন আবু হালা (রা.)-কে রসুল (সা.)-এর অবয়ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি তাঁর পুরো দেহের বর্ণনা দেন।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, রসুল (সা.)-এর কপাল ছিল বেশ উন্নত। ভ্রু ছিল সরু ও ঘন পাপড়িবিশিষ্ট। দুই ভ্রু আলাদা ছিল।

মাঝখানে একটি রগ ছিল। হুজুর (সা.) যখন রাগ হতেন, তখন তা ভেসে উঠত। নাক খাড়া ছিল। ভালোভাবে না দেখলে মনে হতো তিনি প্রকাণ্ড নাকবিশিষ্ট। নাক থেকে এক ধরনের নুর চমকাত।

তিরমিজি। রসুলে করিম (সা.)-এর আকৃতি সম্পর্কে হজরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ‘একবার আমি চাঁদনি রাতে নবী (সা.)-কে দেখলাম। এরপর একবার রসুলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে তাকালাম আর একবার চাঁদের দিকে তাকালাম।

তখন তিনি লাল বর্ণের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তাঁকে আমার কাছে চাঁদের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর মনে হলো।

তিরমিজি, দারেমি। হজরত কাব ইবনে মালেক (রা.) বলেন, রসুল (সা.) যখন কোনো ব্যাপারে আনন্দিত হতেন তখন তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠত। মনে হতো যেন তাঁর মুখমন্ডল চাঁদের টুকরা।

বুখারি, মুসলিম। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রসুল (সা.)-এর সামনের দাঁত দুটির মাঝে কিছুটা ফাঁক ছিল। যখন তিনি কথাবার্তা বলতেন, তখন মনে হতো ওই দাঁত দুটির মধ্য দিয়ে যেন নুর বিচ্ছুরিত হচ্ছে। ’ দারেমি।

লেখক : খতিব, মণিপুর বাইতুল আশরাফ জামে মসজিদ
মিরপুর, ঢাকা।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

June 2026
F S S M T W T
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930