ব্রেকিং নিউজঃ

ইসলামে যে ৬ ব্যক্তির জন্য রোজার বিধান শিথিল করা হয়েছে

আসছে রমজান মাস। এ মাসে রোজা রাখেন মুসলিমরা। প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থমস্তিস্কের সবার জন্য রোজা রাখা ফরজ। তবে অল্প কিছু মুসলিমের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়। সফরের গ্লানি কিংবা ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের এই সুযোগ দেওয়া হয়।

অবশ্য এই ছাড়পত্রেও রয়েছে বৈচিত্র। কারো পরে রোজা কাজা করতে হয়। কেউ ফিদিয়া দিয়ে দায়িত্ব মুক্ত হন। আবার কারো দায়মুক্তির জন্য রোজার কাজাও করা লাগে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

মুসাফিরের রোজা

মুসাফির ব্যক্তির জন্য সফর অবস্থায় রোজা রাখা জরুরি নয়। সফর অবস্থায় রোজা না রেখে পরে রাখারও সুযোগ রয়েছে। তবে বেশি কষ্ট না হলে মুসাফিরের জন্য সফর অবস্থায়ও রোজা রাখা উত্তম। আসেম (রহ.) জানান, হজরত আনাসকে (রা.) সফরের হালতে রোজা রাখার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে রোজা রাখা উত্তম। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৯০৬৭)

সফর অবস্থায় যদিও রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে, তথাপি কেউ রোজা রাখলে বিনা ওজরে তা ভাঙা জায়েজ নয়। সফর অবস্থায় কেউ রোজা রেখে ভেঙে ফেললে গোনাহগার হবে। তবে এ কারণে কাফফারা আসবে না। শুধু কাজা করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ২/৪৩১)

সফরের কারণে রোজা না রাখার সুযোগ তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন কেউ দিনের শুরু তথা সুবহে সাদিকের সময় মুসাফির থাকবে। অতএব, সুবহে সাদিকের সময় নিজ এলাকায় বা অন্য কোথাও মুকিম থাকলে সেক্ষেত্রে দিনের বেলা সফর করার পূর্ণ ইচ্ছা থাকলেও সফরের অযুহাতে রোজা না রাখার সুযোগ নেই। এমনিভাবে মুকিম অবস্থায় রোজা রেখে সুবহে সাদিকের পর সফর করলে শরয়ী কোনো ওজর ছাড়া রোজা ভেঙে ফেলা জায়েজ নেই। মুসাফির ব্যক্তি যদি সফরের কারণে রোজা না রাখে; কিন্তু দিন শেষ হওয়ার আগেই সে মুকিম হয়ে যায়, তাহলে সে দিনের অবশিষ্ট সময় রমযানের মর্যাদা রক্ষার্থে আহার ও পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। আর পরবর্তী সময়ে এ রোজার কাজা করে নেবে। হাসান বসরি (রহ.) বলেন, যে মুসাফির রমজানের দিনে (সফরের হালতে) খাবার খেয়েছে, সে মুকিম হয়ে গেলে দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : হাদিস ৯৪৩৬, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪২৮)

হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত মহিলার রোজা

রমজানের দিনে হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত মহিলা রোজা থেকে বিরত থাকবে এবং পরবর্তীতে ওই দিনগুলোর রোজা কাজা করে নেবে। রমজানের দিনে হায়েজ-নেফাস থেকে পবিত্র হলে অবশিষ্ট দিন রমযানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক এবং পরবর্তী সময়ে এ দিনের রোজারও কাজা করতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/২২১, হাদিস ৯৪৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪২৮)

অসুস্থ ব্যক্তির রোজা

অসুস্থ ব্যক্তি যদি রোজা রাখলে রোগ বৃদ্ধি বা আরোগ্য-লাভে বিলম্ব হওয়ার প্রবল আশঙ্কা হয়, তাহলে এ অবস্থায় তার রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে। সুস্থ হওয়ার পরে সে রোজাগুলোর কাজা করে নেবে। তবে হালকা বা সাধারণ অসুস্থতার অজুহাতে রোজা না রাখা বা রেখে ভেঙে ফেলার সুযোগ নেই। সেজন্য এসব ক্ষেত্রে কোনো বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ মোতাবেক আমল করাই নিরাপদ। (আলমুহিতুল বুরহানি : ৩/৩৫৯; আদ্দুররুল মুখতার : ২/৪২২)

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলার রোজা

গর্ভবতী মহিলা রোজা রাখলে যদি তার বা সন্তানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অনুরূপভাবে স্তন্যদানকারী মা রোজা রাখলে দুগ্ধজাত সন্তানের কষ্ট হওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে এ অবস্থায় তাদের রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে পরে ওই রোজা কাজা করে নেবে। (আলমুহিতুল বুরহানি : ৩/৩৫৯)

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে,

إِن اللهَ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلَاةِ وَعَنِ الْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ الصَّوْمَ.

আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের জন্য রোজার হুকুম শিথিল করেছেন এবং আংশিক নামায কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারীর জন্যও রোজার হুকুম শিথিল করেছেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস ৭১৫; রদ্দুল মুহতার ২/৪২২)

দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তির রোজা

বার্ধক্য বা জটিল কোনো রোগের কারণে যার রোজা রাখার সামর্থ্য নেই এবং পরবর্তীতে কাজা করার সামর্থ্য ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই, এমন ব্যক্তির রোজা রাখার প্রয়োজন নেই। রোজার পরিবর্তে সে ফিদিয়া প্রদান করবে।

নাবালেগ বাচ্চাদের রোজা

নাবালেগ বাচ্চাদের ওপর যদিও রোজা রাখা জরুরি নয়; তথাপি বাচ্চারা যখন শারীরিকভাবে রোজা রাখতে সক্ষম হয়, তখন থেকে তাদেরকে দুয়েকটি করে রোজা রাখতে উৎসাহিত করবে। আর বালেগ হওয়ার পরই যেহেতু রোজা রাখা আবশ্যক হয়ে যায়, তাই সে বিষয়টি লক্ষ রেখে বালেগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সে ছেলে-মেয়েদেরকে রোজার প্রতি অভ্যস্ত করে তুলবে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তাঁদের সন্তানদেরকে রোজা রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। রুবায়্যি’ বিনতে মুআওয়াজ রা. বলেন, আমরা নিজেরা আশুরার রোজা রাখতাম এবং আমাদের বাচ্চাদেরকেও রোজা রাখাতাম। তাদের জন্য পশমের তৈরি খেলনা রাখতাম। যখন বাচ্চাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদত, তখন তাকে খেলনা দিতাম, এভাবে ইফতারের সময় হয়ে যেত। (সহিহ রোখারি, হাদিস ১৯৬০)

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

May 2026
F S S M T W T
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031