প্রদীপ লিয়াকত নন্দদুলালকে রিমান্ডে নিয়েছে র্যাব
কক্সবাজারে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ মঙ্গলবার রিমান্ডে নিয়েছে র্যাব। ছবি : এনটিভি
কক্সবাজারে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে র্যাব। অপর দুজন হলেন টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। আজ সকাল ১০টার দিকে কারাগারে থাকা রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে তাঁদের মেডিকেল চেকআপ করা হবে। এরপরই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হবে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘আজ মঙ্গলবার ওসি প্রদীপকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা ছিল। কিন্তু র্যাবের একটি দল ওসি প্রদীপসহ তিনজনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়েছে। একইভাবে ওসি প্রদীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরাও কারাগারে গিয়েছিলাম। যেহেতু ওসি প্রদীপকে আমাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল, সেহেতু পুরো বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এর আগে গত ৬ আগস্ট টেকনাফ থানার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের আদালত। এ ছাড়া মামলার বাকি চার আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন তিনি। পরে ১২ আগস্ট ওই চার আসামিসহ সাতজনের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১৪ আগস্ট তাঁদের কারাগার থেকে নিয়ে যায় র্যাব।
ওই সাতজন হলেন এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী মো. নুরুল আমিন, মো. নিজাম উদ্দিন ও মো. আয়াজ।
গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি আর রামু থানায় একটি মামলা করে।
পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে নয়জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল। এঁদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক।
এর আগে মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আজ দুপুরে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শুনানির পর আদালত থেকে বেরিয়ে সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও র্যাবে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারে কর্মরত এপিবিএন-১৪-এর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজারে র্যাব-১৫-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে সিনহা হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে তাঁদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ সকালে তাঁদের তিনজনকে কক্সবাজার আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে সিনহা হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা র্যাব।
নতুন গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে এপিবিএনের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করেছেন।
