ত্রাণ না পেয়ে অসহায় রিক্তার আর্তনাদ
ঘরে খাবার নেই -বুকে দুধ নেই। কোলে দুধের শিশু বাঁচাবো কি করে। সরকার কত কিছু দেয় শুনেছি। কিন্তু আমরা গরীব অসহায় দিনমজুর হয়েও আজ পর্যন্ত কোন খাদ্য সহায়তা পাইনি। আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। আজ তিনদিন বাড়ীতে কোন খাবার নেই তাই হাড়ি জ্বলেনি।
দুই শিশু সন্তান নিয়ে অনাহারে থেকে এভাবেই হাহাকার করছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার স্কুল পাড়া গ্রামের দিনমজুর আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। তিনি বলেন, আয় রোজগার না থাকায় শিশুর দুধ -সাবু কিনতে পারছিনা। বুকের শিশুকে কি খাওয়াবো। আল্লাহই শুধু ভরসা। এত কষ্ট নিয়ে ২ শিশু সন্তান নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো, কে আমাদের জায়গা দেবে!
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে,জন্মের কিছুদিন পরেই মাকে হারিয়ে নানীর কাছে লালিত হয়েছেন রিক্তা খাতুন। বাবা অন্যত্র বিয়ে করে সন্তান ফেলে পালিয়ে গেছে। দুঃখ কষ্ট সহ্য করে বাল্য বয়সেই একই গ্রামের আলমগীরের সাথে বিয়ে হয়।
অন্যের জায়গায় ছোট্ট একটি টিনের খুপরি ঘরে দুই শিশু সন্তান নিয়ে বসবাস । ঘরের বেড়ার নিচ দিয়ে অনায়াসেই যাতায়াত করতে পারে সব জীব জন্তু। সাপ বিচ্ছুর ভয়ে কখনও শিশুকে ঘরের ভাঙ্গা চোরা মেঝেতে রাখা যায়না। হতদরিদ্র স্বামী আলমগীর হোসেন দিনমজুর। রাজমিস্ত্রির যোগাল হিসাবে কাজ করে থাকে।
রিক্তা খাতুন দাবি, যদি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকতাম। সরকারী সহযোগিতা অথবা এলাকার বিত্তবানরা যদি আমাদের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ায় তাহলে আমি শিশু দুটি নিয়ে বেঁচে থাকবো। নইলে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে হয়তো আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
ভবানী-পুর ওয়ার্ডের আনোয়ারুল মেম্বার জানান, আমিও গরীব মানুষ। অসহায় মানুষের জন্য আমি ব্যক্তিগত ভাবে কয়েকজনকে খাদ্য সহায়তা করেছি। পরবর্তীতে আমি রিক্তা খাতুনের নাম তালিকাভুক্ত করে সহায়তা দেব।
