ব্রেকিং নিউজঃ

করোনা একটু করুণা করলেই খাবার জুটতো সামিনার

ক্যান্সার আক্রান্ত স্বামী ধুঁকছেন। বাড়িতে ছোট মেয়ে। কিন্তু ঘরে খাবার নেই। তাই খাবারের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন পঙ্গু সামিনা বেগম। ক্র্যাচে ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে চললেও কোথাও কেউ তাকে একটু চাল-ডাল দিয়ে সহযোগিতা করেননি। সামিনা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটেই চলছিলেন।

রাজশাহী নগরীর দড়িখড়বোনা এলাকায় সামিনাকে এভাবে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এক হাতে ধরে রেখেছেন ক্র্যাচ। অন্য হাতে ব্যাগটিও ধরে রাখার শক্তি নেই তার। তাই ক্র্যাচের সঙ্গেই ঝুলিয়ে রেখেছেন খালি ব্যাগটি। সামিনা বললেন, কেউ যদি একটু চাল-ডাল দেয়, তার জন্য ব্যাগটা রেখেছি। কিন্তু কেউ দিল না। কখন চাল-ডালের ব্যবস্থা করে ঘরে ফিরব তা জানি না।

সামিনা বলেন, এক পায়ে চলতে পারি না। কিন্তু বের না হলেও তো উপায় নেই। অসুস্থ স্বামী আর ছোট মেয়ের মুখে তো খাবার তুলে দিতে হবে। তিনি বলেন, কত মানুষ কত ত্রাণ পাচ্ছে। কিন্তু আমার দিকে কেউ একটু তাকালো না। মানুষের কাছে হাত পাতব, কিন্তু দেয়ার মতো লোক বাইরে নাই।

করোনার মধ্যে যারা এখন বের হয়েছেন তারা নিজের পেটের দায়েই বের হয়েছেন। করোনা যদি একটু করুণা করে চলে যেত, তাহলে আমাদের পেটে খাবার জুটতো।

সামিনা জানালেন, তার স্বামীর নাম নূর ইসলাম। তিনি আগে ঠিকাদারী করতেন। রাজশাহী নগরীর আমবাগান এলাকায় তাদের নিজের বাড়িও ছিলো। কয়েকবছর আগে নূর ইসলাম ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার জন্য বিক্রি করে দিতে হয়েছে বাড়িভিটা।

এখন নগরীর দাসপুকুর মোড়ে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। দু’বছর আগে সামিনা নিজেও স্ট্রোক করেন। তারপর তার ডান পা প্যারালাইজড হয়ে গেছে। ক্র্যাচে ভর দিয়ে তাকে এখন চলতে হয়।

সামিনার মেয়ের বয়স আট বছর। বাবা-মায়ের সঙ্গে তাকেও অনেক সময় অনাহারে থাকতে হয়। সামিনা বলেন, একটা সময় নিজের বাড়ি ছিলো। ঘরে খাবার ছিলো। হাতে টাকা ছিলো। এখন কিছুই নেই। মেয়েটার মুখে তুলে দেয়ার মতোও যখন কোনো খাবার জোটে না তখন তার খুব কষ্ট হয়।

তিনি বলেন, বাড়িভিটা বিক্রির টাকা স্বামীর চিকিৎসায় শেষ। এখন টাকার অভাবে তাদের স্বামী-স্ত্রীর চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ। এখন ঘরে চুলোই জ¦লে না প্রতিদিন। এ দিন বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে এসেছেন সামিনা। কিন্তু চাল-ডালের ব্যবস্থা করতে পারেননি। সারাদিনেও পারবেন কি না জানেন না।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

May 2026
F S S M T W T
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031