ব্রেকিং নিউজঃ

২০০ বছর পর গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে মসজিদ উদ্বোধন আজ

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে প্রায় ২০০ বছর পর গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মসজিদের উদ্বোধন করা হচ্ছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে এ মসজিদের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

তবে করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের ফলে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো গ্রিসেও নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধির মধ্য দিয়ে আপাতত স্বল্পসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে এ মসজিদের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে টিআরটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এথেন্স বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো শহরগুলোর একটি।

গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের পর থেকে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে ওঠে গ্রিস।

আজকের দিনে এথেন্সের বিভিন্ন শহরতলীতে পা রাখলে চোখে পড়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সোমালিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তান, লেবানন, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ। তাদের একটি বড় অংশ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী।

গ্রিসে স্থানীয় মুসলমানদের বেশিরভাগ আলবেনীয় ও তুর্কি বংশোদ্ভূত। তাদের অনেকে গ্রিসের মূলধারার সঙ্গে নানাভাবে মিশে গিয়েছেন।

অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের মতো তাদেরকে বিশেষভাবে আলাদা করার উপায় নেই। এছাড়াও বেশ কিছুসংখ্যক গ্রিকভাষী রয়েছেন যারা জন্মগতভাবে মুসলমান।

উল্লেখ্য, গ্রিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুরস্কের সীমান্তবর্তী থ্রেস দেশটির একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল। ইউরোপের মধ্যে থ্রেসই একমাত্র অঞ্চল যেখানে শরীয়া আইন রয়েছে।

১৯২৩ সালে স্বাক্ষরিত লুজান চুক্তির পর গ্রিসে বসবাসরত মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকাংশকেই তুরস্কে চলে যেতে হয়।

একইভাবে, সেসময় তুরস্কে বসবাসরত খ্রিস্টানদের গ্রিসে স্থানান্তর করা হয়।

মূলত তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের হাত ধরে গ্রিসে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটে। ১৮২১ সালে এথেন্সসহ বর্তমান গ্রিসের বেশ কয়েকটি অঞ্চল অটোমান শাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দেয়।

১৮২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম হেলেনিক প্রজাতন্ত্র গ্রিস যার রাজধানী হিসেবে বেছে নেয়া হয় এথেন্সকে। ১৮৩৩ সাল থেকে তৎকালীন হেলেনিক প্রজাতন্ত্রের সরকারের অর্থায়নে এথেন্সে একটি মসজিদ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন সেখানকার মুসলমানরা।

১৮৯০ সালে সরকারিভাবে এথেন্সে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে দেশটির অতি ডানপন্থি ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র বিরোধিতা,

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অর্থোডক্স গির্জাগুলোর বাধা ও আর্থিক সঙ্কটের কারণে সেখানে মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি আলোর মুখ দেখেনি।

গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের রাজনৈতিক বৈরিতা দীর্ঘদিনের। এ কারণে গ্রিসের অনেক সাধারণ মানুষও এতোদিন পর্যন্ত এথেন্সে মসজিদ নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।

তাদের অনেকের মতে, গ্রিসে নতুন করে কোনো মসজিদ নির্মাণ করার মানে দাঁড়াবে পুনরায় দেশটিতে অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসের পুর্নজাগরণ ঘটানো।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

July 2026
F S S M T W T
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31