ব্রেকিং নিউজঃ

শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণার যে ব্যাখ্যা দিলো বিজিএমইএ

সম্প্রতি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হকের শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণার ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিজিএমইএ মনে করে, বিষয়টি (শ্রমিক ছাঁটাই) বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত হয়নি।

আজ শনিবার বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. রফিকুল ইসলামের (অব.) স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিজিএমইএ সভাপতি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেননি। সংগঠন হিসেবে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়ার কোনো সুযোগও নেই। তিনি কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়া এবং সম্ভাব্য শ্রমিক ছাঁটাই বিষয়ে তার গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক গত বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাই হবে। এরপর তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সংগঠন এর প্রতিবাদ জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রুবানা হকের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে আজ গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে বিজিএমইএ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি অর্থ বছরের প্রথম ১০ মাসে ( জুলাই ২০১৯- এপ্রিল ২০২০) পোশাক শিল্পে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ১৪ শতাংশ, যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। ১ থেকে ২০ মে পর্যন্ত সময়ে এ শিল্পে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পোশাক শিল্পে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে গেছে। পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারগুলো কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে অনেক বড় বড় ক্রেতা দেউলিয়াত্বও বরণ করেছে।

বিজিএমইএ জানায়, চলমান পরিস্থিতিতে প্রকৃতপক্ষে কোনো কারখানাই সামর্থ্যের শতভাগ ব্যবহার করতে পারছে না। ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় কারখানা সচল রেখেছে-এমন ঘটনাও আছে। বড় কারখানাগুলোও ৬০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। পোশাক কারখানাগুলো গড়ে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে কোনোরকমে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখছে। জুলাই পরিস্থিতি এখনই অনুমান করা কঠিন। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলো পোশাক শিল্পের জন্য আরও চ্যালেঞ্জের হবে।

বিজিএমইএ আরও জানায়, ম্যাকেঞ্জির তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এর প্রভাবে ২০২০ সালে আগের বছরের তুলনায় বিশ্বের পোশাক বাজারে সেলস রেভিনিউ ৩০ শতাংশ অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, চলমান পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ এর সদস্যভুক্ত কারখানার মধ্যে ৩৪৮টি বন্ধ হয়েছে গত ২ মাসেই। বাকি আছে আর ১ হাজার ৯২৬ কারখানা।

পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাকি কারখানাগুলো হয় একে একে বন্ধ হয়ে যাবে অথবা কম ক্যাপাসিটিতে (পূর্ণ সামর্থ্য ব্যবহার ছাড়াই) টিকে থাকার চেষ্টা করবে দিন বদলের আশায়। এটাই বর্তমান বিশ্বের রূঢ় বাস্তবতা। আমরা সবাই দেখছি, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতেও কাজ ও শ্রমিকসংখ্যা বিপুলভাবে কমছে। আমরা শিল্প গড়ি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য। আজকের এই বাস্তবতা আমাদের উদ্যোক্তাদের জন্যও নির্মম।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনার বিষয়ে বিজিএমইএ বলে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত সহজ শর্ত ঋণের ৫ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল অ্যকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে। পোশাক খাত প্রতিমাসে মজুরি পরিশোধ করে থাকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার।

তারা আরও জানায়, সমস্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কারখানা বন্ধ বা সামর্থ্য কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের কথা ভেবে বিজিএমইএ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। শুধু পোশাকখাত নয়, সব খাতেই কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে। বিজিএমইএ একান্তভাবে আশা করে, কোনো কারখানা যদি উপরোক্ত পরিস্থিতির শিকার হয়ও, তথাপি মালিক ও শ্রমিক উভয়ই শ্রম আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

August 2026
F S S M T W T
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031