ব্রেকিং নিউজঃ

ঘন্টায় ৪৫০ কিলোমিটার গতির বুলেট ট্রেন তৈরি করেছে চীন

চীন তৈরি করেছে বিশ্বের অন্যতম উচ্চগতির বুলেট ট্রেন CR450 যা বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এই ট্রেনটির গতি পরীক্ষায় ৪৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এই গতির জন্য এটিকে বিশ্বের দ্রুততম বুলেট ট্রেনগুলোর মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। চীন স্টেট রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (চায়না রেলওয়ে) এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পরিচালনা করছে। প্রকৌশলীরা ট্রেনটির ওজন নিয়ন্ত্রণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এর জন্য ট্র্যাকের উপর সেন্সর স্থাপন করা হয়েছে, যা ট্রেনের প্রতিটি চাকার ওজন সংক্রান্ত তথ্য রিয়েল-টাইমে কম্পিউটার সিস্টেমে পাঠায়। এতে ওজনের সঠিক পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে, যা ট্রেনের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উচ্চ গতির কারণে ট্রেনটির কাঠামোগত শক্তি বৃদ্ধি করতে হয়েছে। একজন গবেষক বলেছেন, “ওজন কমানোর পাশাপাশি আমাদের ট্রেনটির কাঠামোগত শক্তিও বাড়াতে হয়েছে, যাতে এটি আরও মজবুত থাকে। এটি অনেকটা শরীরের ওজন কমানোর সাথে সাথে পেশি শক্তিশালী করার মতো।”

ট্রেনের গতি বাড়ানোর জন্য বাতাসের প্রতিরোধ কমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। গবেষকরা ট্রেনের নিচের বগি অংশ সম্পূর্ণরূপে আচ্ছাদিত করেছেন, যা প্রথমবারের মতো কোনো উচ্চগতির ট্রেনে ব্যবহৃত হয়েছে। একজন সিনিয়র ডিজাইনার জানান, “ট্রেনের শরীরকে যথাসম্ভব মসৃণ রাখা হয়েছে, যাতে বাতাসের প্রতিরোধ কম হয়।”

CR450 ইতোমধ্যে স্থির ও নিম্নগতির পরীক্ষার ধাপ পেরিয়েছে। এই ধাপে ট্রেনের ট্র্যাকশন, ব্রেকিং এবং শব্দ নিরীক্ষণ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ধাপে ট্রেনের গতি ধীরে ধীরে বাড়িয়ে আরও উন্নত পরীক্ষা চালানো হবে।

বর্তমানে, চীনই একমাত্র দেশ যেখানে ৩৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বাণিজ্যিক উচ্চগতির ট্রেন পরিচালিত হয়। নতুন CR450 ট্রেনটি ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেশি গতিতে চলতে সক্ষম, যা উচ্চগতির রেল প্রযুক্তিতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০১৮ সাল থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান CARS-এর গবেষক ঝ্যাং বো ও তার দল এই ট্রেনটির প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা যাচাই, কাঠামোগত মান নির্ধারণ ও কার্যকর প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। তিনি বলেন, “৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি বৃদ্ধি ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এটি বাস্তবে অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।”

উচ্চ গতি ও নিরাপদ পরিচালনার পাশাপাশি ট্রেনটির ওজন কমানো, শব্দ ও কম্পন নিয়ন্ত্রণ করা এবং স্বয়ংক্রিয়তা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে বাতাসের প্রতিরোধ ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে।

ঝ্যাং বো আরও বলেন, উচ্চগতির রেলের গতি কেবল প্রযুক্তিগত নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক বিষয়ও। তাই পরিবেশের ওপর প্রভাব বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে, উচ্চগতির রেলের অন্যতম প্রধান সূচকই হচ্ছে গতি। তিনি আরো বলেন পরীক্ষাগুলোর সফল সমাপ্তি হলে CR450 বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হবে।

নির্ধারণ ও কার্যকর প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। তিনি বলেন, “৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি বৃদ্ধি ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এটি বাস্তবে অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।”

উচ্চ গতি ও নিরাপদ পরিচালনার পাশাপাশি ট্রেনটির ওজন কমানো, শব্দ ও কম্পন নিয়ন্ত্রণ করা এবং স্বয়ংক্রিয়তা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে বাতাসের প্রতিরোধ ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে।

ঝ্যাং বো আরও বলেন, উচ্চগতির রেলের গতি কেবল প্রযুক্তিগত নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক বিষয়ও। তাই পরিবেশের ওপর প্রভাব বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে, উচ্চগতির রেলের অন্যতম প্রধান সূচকই হচ্ছে গতি।

এই গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চীনের উচ্চগতির রেল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা উন্মুক্ত করছে। পরীক্ষাগুলোর সফল সমাপ্তি হলে CR450 বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হবে, যা রেল পরিবহনে নতুন দিগন্ত তৈরি করবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

June 2026
F S S M T W T
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930