ব্রেকিং নিউজঃ

ফেসবুকে ভুয়া খবর ও গুজব বন্ধে রাষ্ট্রকেই কঠোর হতে হবে

ফেসবুকে বিপজ্জনক ভুয়া খবর ও গুজব বন্ধ করা অথবা কোন বক্তব্য ‘আইনসম্মত ও বৈধ’ কিনা সেটি বিচার করা ফেসবুকের মত কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এবিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকেই ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মার্ক জুকারবার্গ।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা বিষয়ক এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মার্ক জুকারবার্গ বলেছেন, ‘এটি বন্ধে বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।’ তবে একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হলে সেটি মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন জুকারবার্গ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইনে মিথ্যা খবর ও গুজব ছড়ানো বন্ধের জন্য ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বিষয়ে ফেসবুকের নীতির কারণে সংস্থাটি ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং পরের বছর সারা বিশ্বের জন্য রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বিষয়ে নতুন নীতিমালা চালু করে।

নীতিমালার মধ্যে অন্যতম ছিল, নির্দিষ্ট ঐ প্রচারণার জন্য অর্থ প্রদানকারীর নাম-পরিচয় বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করতে হয়, এবং ঐ বিজ্ঞাপনের একটি কপি জনসম্মুখে সার্চ করা যায় এমন ডাটাবেজে পরবর্তী সাত বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু এ সপ্তাহে ফেসবুক ঘোষণা দিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার তারকাদের স্পন্সর করা রাজনৈতিক পোষ্ট সংস্থাটির ডাটাবেজে আর সংরক্ষণ করা হবে না।

তাছাড়া কোম্পানির নীতি অনুযায়ী রাজনীতিবিদদের পোষ্টগুলোর সত্য-মিথ্যাও সবসময় যাচাই করা হয়না। যে কারণে ঐ সম্মেলনে তিনি আইন কঠোর করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

জুকারবার্গ বলেন, ‘সমাজে সমতার ভারসাম্য রক্ষার কাজটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বদলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নেবে এমনটা চাইনা আমরা। তার বদলে সরকারকেই সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।’

তিনি মনে করেন, ‘বর্তমানে প্রচলিত টেলিকম ও মিডিয়া কোম্পানি আইনের মিশেলে হতে পারে সেই আইন। সে ধরণের একটি আইন প্রণয়ন হবার আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের সর্বোচ্চটুকু করতে থাকবো।’

তবে জুকারবার্গ স্বীকার করেন যে, ফেসবুকে রাশিয়ার মত বিভিন্ন রাষ্ট্রচালিত সংগঠিত ‘তথ্য প্রচারণা’ শনাক্ত করতে সংস্থাটির দেরি হয়েছিল।

আবার অন্যদিকে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ও বিপজ্জনক কন্টেন্ট তৈরি করে তারাও নিজেদের পরিচয় গোপন করতে, আইপি অ্যাড্রেস লুকিয়ে রাখার কাজে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩৫ হাজার কর্মীর একটি দল রয়েছে ফেসবুকের, যাদের কাজ প্রতিটি কন্টেন্টের মূল্যায়ন এবং এর নিরাপত্তার দিকটি খতিয়ে দেখা। কৃত্রিম বুদ্ধির সাহায্যে সংস্থাটি প্রতিদিন দশ লাখের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে।’

তিনি জানান, ‘কন্টেন্ট রিভিউ করা জন্য এখন আমাদের যে বাজেট, তা ২০১২ সালে যখনপুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হই সে সময় কোম্পানির মূল আয়ের চেয়ে বেশি। সে সময় আমাদের ব্যবহারকারী ছিল একশো কোটি মানুষের মত।’

এদিকে, ভুয়া খবর, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রচারণা ইত্যাদি নিয়ে নানামুখী সমালোচনার মধ্যেই ফেসবুক এবং এর সহযোগী প্ল্যাটফর্মসমূহ যেমন মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং এ থেকে আয় বেড়েই চলেছে।

এ মাসের শুরুতে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, বিশ্বব্যাপী তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুই শো কোটি মানুষ, যা পুরো বিশ্বে মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

May 2026
F S S M T W T
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031