ব্রেকিং নিউজঃ

নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামছে দক্ষিণের তিন লাখ জেলে

ইলিশের ৫টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। জাটকা নিধন বন্ধে অভয়াশ্রমে টানা ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় নতুন স্বপ্ন নিয়ে শুক্রবার থেকেই নদীতে নামছে বরিশাল বিভাগের ৩ লক্ষাধীক জেলে।

এর মধ্যে বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন মেঘনার ষষ্ঠ অভায়াশ্রমেও মাছ ধরা শুরু করতে যাচ্ছে প্রায় ৭৮ হাজার জেলে। যদিও প্রানঘাতী করোনার প্রভাবে এবার নিষেধাজ্ঞা এলাকাগুলোতে অনেকটা ঢিলেঢালা ভাবে অভিযান পরিচালনা হয়েছে।

যে কারণে নিষেধাজ্ঞার মধ্যভাগ থেকে হাটবাজার ও পাড়ামহল্লায় চাপিলার নামে ইলিশের বাচ্চা বিক্রি হতে দেখা গেছে দেদারছে।

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, করোনার প্রভাবে এবার অভয়াশ্রমগুলোতে অভিযান কম হলেও নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃংখলাবাহিনী সতর্ক ছিল।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল ইলিশের ৫টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য অধিদপ্তর। নিষেধাজ্ঞার আওতায় যে ৫টি অভয়াশ্রশ ছিল তার সীমানা হচ্ছে- বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর নদীর হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দিগঞ্জের বামনীরচর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১৪ কিলোমিটার, মেহেন্দিগঞ্জের গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ দশমিক কিলোমিটার, হিজলার মেঘনার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দিগঞ্জ সংলগ্ল মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার।

চর ইলিশার মদনপুর থেকে ভোলার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহাবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী জেলার চররুস্তুম পর্যন্ত তেতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষীপুর জেলার চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং শরীতপুর জেলার নুরিয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত নি¤œ পদ্মার ২০ কিলোমিটার নদ-নদী।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রম সংলগ্ন মেঘনা ঘেরা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে নিষেধাজ্ঞাকালীন এবার দেদাড়ছে ইলিশের বাচ্চা নিধন চলেছে। এগুলোকে চাপিলা হিসেবে হাটবাজারে বিক্রি করতেও দেখা গেছে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলো পাড়ায় কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। নদীতে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে অধিকাংশ জেলে। হিজলা, মেতহেন্দীগঞ্জ ও সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদের একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞা আর করোনার কারনে তাদের জীবিকা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তারা এখন ঘুরে দাড়াতে চান।

জানতে চাইলে বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ইলিশ রক্ষায় অন্যান্য অভয়াশ্রমের মত ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রমেও টানা ২ মাস নিষেধাজ্ঞা বলত ছিল। মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছে। এবার গত বছরের চেয়ে জেল-জরিমানাও কম।

তিনি দাবী করেন- জনগন সচেতন ছিল, তারা নিষেধাজ্ঞা মেনেছে। করোনার প্রভাবে নিষেধাজ্ঞা ঢিলেঢালা ভাবে পালন হয়েছে কিনা এ প্রসঙ্গে মৎস্য কর্মকর্তা বিমল বলেন, করোনার প্রভাব কিছুটাতো পড়েছেই। কিছু দুস্কৃতকারীও নদীতে নেমেছে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা নদীতে নামলে বোঝা যাবে অভিযান কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে।

এব্যপারে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আজিজুল হক বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড নদীতে ছিল। এবার করনোর ক্রান্তিকাল স্বত্বেও অভিযান মোটামুটি চলছে, আমরাও চেস্টা করেছি। চাপিলার নামে ইলিশের বাচ্চা নিধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব সময়ই এগুলো নিধন হয়, এবারও কিছু হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

May 2026
F S S M T W T
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031