আ.লীগ-স্বতন্ত্র সংঘাত অব্যাহত, হামলা-ভাঙচুর আগুন গুলি
দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা-ভাঙচুর, গুলি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নৌকার গণসংযোগে ছাত্রলীগের ৪ জনকে কুপিয়েছে একই সংগঠনের আরেক গ্রুপ। রাজশাহীর বাগমারায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৪ কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। ময়মনসিংহের নান্দাইলে নৌকার ৩ সমর্থককে বেধড়ক মারধর করা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নোয়াখালীর সেনবাগে নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান এমপির ছেলের নেতৃত্বে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে গুলি, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো খরব-
নোয়াখালী : সেনবাগ উপজেলার ছাতার পাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আবদুর রহমানের ঠনারপাড় গ্রামের বাড়িতে শনিবার সন্ধ্যায় হামলা, গুলি, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, বিকালে আমার বাড়ির আঙ্গিনায় নৌকার লোকেরা পোস্টার লাগাতে এলে আমার স্ত্রী তাদের নিষেধ করে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। সন্ধ্যার পর নোয়াখালী-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ-সদস্য মোরশেদ আলমের ছেলে সাইফুল আলম দিপুর নেতৃত্বে ৫-৬টি মাইক্রোবাস ও ৮-১০টি মোটরসাইকেলে ৫০-৬০ জন বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ককটেল বিস্ফোরণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আমার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আমি পাঁচ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করে পুলিশকে দিয়েছি। তারা সিসিটিভির যন্ত্র, ফুটেজ সব খুলে নিয়ে গেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক (কাঁচি) বলেন, নৌকার লোকজন চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের বাড়িতে গুলিবর্ষণ করে তাণ্ডব চালায়। বিষয়টি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে।
তবে সাইফুল আলম দিপু হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এলাকায়ও ছিলাম না। কারা এ হামলা করেছে তা আমার জানা নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার লোকজন তাকে জড়িয়ে গুজব ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজিব বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহাম্মদপুর (ঢাকা) : রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার টাউন হল বাজার মসজিদের সামনে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির নানকের গণসংযোগে প্রতিপক্ষের হামলায় ৪ জন আহত হয়েছেন। মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুল হাসান রাসেল সমর্থিত গ্রুপের ওপর রাম দা-চাপাতি নিয়ে হামলা করে সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেনের গ্রুপ। আহতরা হলেন- মেরাজ, সিয়াম, বাপ্পি ও সৌরভ। সবাই ছাত্রলীগকর্মী। তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহাকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আজিজুল হক জানান, নির্বাচনি মিছিলের মধ্যে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই তা থেমে যায়।
বাগমারা (রাজশাহী) : জ্যোতিনগঞ্জ বাজারে শনিবার রাত ১০টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সমর্থক বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ আব্দুল বারিকসহ ৪ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এছাড়া দ্বীপপুর ইউনিয়নের মীরপুর ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১২টি নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে রোববার বিকালে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চেউখালি বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা।
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) : নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নে নৌকার নির্বাচনি প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনজনকে মারধর করেছে ঈগলের সমর্থকরা। শনিবার রাত দেড়টার দিকে আচারগাঁও ইউনিয়নের পুরহরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত নৌকার সমর্থক কবির মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার দুটি দাত ভেঙে গেছে এবং ডান চোখ মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এছাড়া খোকন মিয়া ও ইয়াসিন নামে অন্য দুজন নান্দাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হিজলা (বরিশাল) : শনিবার রাত ১০টায় উপজেলা সদর টেকের বাজারের পূর্ব মাথায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এমপি পংকজ নাথের (ঈগল) কর্মীদের সঙ্গে নৌকার প্রার্থী ড. শাম্মী আহমেদের কর্মীদের মারামারি হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার (ঈগল) নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা ও হামলার অভিযোগে নৌকার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রোববার সকালে দিলীপ কুমারের প্রতিনিধি আব্দুল মালেক সদর থানায় এ মামলা করেন। পুলিশ প্রধান আসামি নৌকা প্রতীকের সমর্থক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ হাসানুজ্জামান ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) : স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএ ওয়াদের নির্বাচনি ক্যাম্পে শনিবার রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর প্রতিবাদে প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
ফরিদপুর : ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম হকের পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এসময় তার কর্মী রুবেল মণ্ডলকে মারধর করা হয়। রোববার বেলা ১১টায় আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পাটপাশায় এ ঘটনা ঘটে।
বাগাতিপাড়া (নাটোর) : নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে নৌকার প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বকুলের অস্থায়ী নির্বাচনি অফিসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্ত্বরা। শনিবার রাতে বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের তালতলায় এ ঘটনা ঘটে।
কালকিনি (মাদারীপুর) : কালকিনিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী এসকান্দার খাকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে শনিবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের ব্যানারে এ বিক্ষোভ হয়। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান শাহিন প্রমুখ। তাহমিনা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার ঈগল মার্কার শান্তিপূর্ণ মিছিলে বোমা হামলা করে ১০ জনকে আহত করে নৌকার সমর্থকরা। আমার মিছিলে অংশ নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নৌকার লোক ফজললু বেপারীর নেতৃত্বে এসকান্দারকে হত্যা করা হয়।
মান্দা (নওগাঁ) : মান্দা উপজেলার মৈনম বাজারে নির্বাচনি সহিংসতা মামলায় নৌকা প্রার্থীর তিনজন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- আশিক মণ্ডল, সাদ্দাম হোসেন, আবদুল হান্নান ও আনোয়ার হোসেন।
