খালেদা জিয়ার পরিণতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন আইনজীবীদের মোর্চা ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্ট (ইউএলএফ)।
বুধবার সুপ্রিমকোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
এর আগে দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিএনপি সমর্থক ও সরকারবিরোধী কয়েকশ আইনজীবী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের মাজার গেট দিয়ে রাজপথে প্রবেশ করেন। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আইনজীবীদের বিক্ষোভ মিছিল শিক্ষাভবন, কদম ফোয়ারা, জাতীয় ঈদগাহ ময়দান হয়ে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান গেটের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে আইনজীবীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
সমাবেশে ইউএলএফের প্রধান সমন্বয়ক ও আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব কায়সার কামাল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন। খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় হিংস্রতা এবং বর্বরতার শিকার।
তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার। তাই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য, বিদেশে প্রেরণের জন্য আজকে আইনজীবী সমাজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
বিএনপির আইন সম্পাদক কায়সার কামাল বলেন, আমরা একটা কথা সুস্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, খালেদা জিয়ার যদি কিছু হয়, সেজন্য আইনজীবী সমাজ প্রস্তুত রয়েছে।
যারা তার এই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির জন্য দায়ী থাকবেন বা দায়ী আছেন তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
আর সেই মামলার এক নম্বর আসামি হবেন শেখ হাসিনা, দুই নম্বর আসামি হবেন অনির্বাচিত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তিন নম্বর আসামি হবেন দলকানা অ্যাটর্নি জেনারেল।
অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্টের আহ্বায়ক জয়নুল আবেদীন বলেন, এই সরকার জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে জানে না। এই সরকার গণতন্ত্র বোঝে না, এই সরকার আইনের শাসন বোঝে না, এই সরকার মানবাধিকার বোঝে না।
তাই প্রত্যেকের সমস্বরে বলা উচিত এই সরকার এ দেশের জনগণের মুক্তি চায় না। এই সরকার জনগণের ভালো চায় না।
তারা চায় শুধু নিজেদের দলের লোকজনের উন্নতি। তারা চায় শুধু বিদেশে জনগণের টাকা পাচার করতে। তারা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করে ব্যাংকগুলো ফাঁকা করে ফেলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি একটি দলের প্রধান হয়ে আরেকটি দলের প্রধানের ওপর প্রতিশোধ নিতে যাবেন না।
ইউএলএফের কো-কনভেনার সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের রাগ, ক্ষোভ যদি বাড়তে থাকে তাহলে আপনার জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
ইউএলএফের সমন্বয়ক গাজী কামরুল ইসলাম সজলের সঞ্চালনায় এবং ইউএলএফের সুপ্রিমকোর্ট ইউনিটের কনভেনার শাহ আহমেদ বাদলের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন ইউএলএফের কনভেনার সৈয়দ মামুন মাহবুব, আইনজীবী নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, রেজাউল করিম খন্দকার, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, নূরে এরশাদ সিদ্দিকী প্রমুখ। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজাল, আইনজীবী আবদুল জব্বার ভূঁইয়া প্রমুখ।
