ব্রেকিং নিউজঃ

সিলেটে উন্নয়ন কাজে দেরি, সংশ্লিষ্টদের ওপর রাগ ঝাড়লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেটে উন্নয়ন কাজে দেরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর বিরাগভাজন হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সিলেটের জন্য বড় বড় প্রকল্প দ্রুত পাশ হয়, অর্থও যথাসময়ে বরাদ্দ হয়; কিন্তু প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ হয় না।

এটা খুবই দুঃখ ও হতাশাজনক। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা তা চেপে রেখে সময়ক্ষেপণ করেন। অথচ তাদের বদলি বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে তারা ঠিকই যোগাযোগ করেন।

সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও পেশাজীবীদের নিয়ে ঢাকায় মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এমন রাগ ঝাড়েন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনা করে সিলেটজুড়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। বর্তমান সরকারের করা সব উন্নয়ন জনগণের মাঝে প্রচার করতে হবে; যাতে মানুষ সহজেই সেবা গ্রহণ করতে পারে।

ড. মোমেন বলেন, একসময় সিলেট-শিলচর বাস চলাচল করত কিন্তু এখন বন্ধ। এ যোগাযোগব্যবস্থা আবারো স্থাপন করা গেলে দুই দেশের জনগণ ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত উদ্যোগ নিন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব এনামুল হাবিবের পরিচালনায় এ মতবিনিময় সভায় সিলেটের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত, স্বাস্থ্য প্রকৌশল এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলীরা।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল-কবির এবং সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় সিলেট-ঢাকা ৬ লেন ও সিলেট-তামাবিল ৬ লেন সড়কের কাজের অগ্রগতি, কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ওসমানী বিমানবন্দর থেকে চৌকিদিঘী রাস্তা ৪ লেনে উন্নীতকরণ, সিলেট শহরকে যানজটমুক্ত করতে রিং রোড স্থাপন পরিকল্পনা, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, সুরমা নদীর ভাঙন রক্ষা প্রকল্প, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পসহ সিলেট সিটি করপোরেশন এবং সিলেট জেলা পরিষদের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসম্বের শেষ হওয়ার কথা; কিন্তু ২ হাজার ৩শ ৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকার এই প্রকল্পের কাজ এখন পর্যন্ত মাত্র ২২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পটির পরিচালক জানান, নকশায় ভুল থাকায় তা সংশোধন করে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। পুরো কাজ শেষ করতে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর সময় বাড়াতে হবে। এছাড়া ৪০৫ কোটি টাকা প্রকল্পের ওসমানী বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ের টেক্সিওয়ে শক্তি বৃদ্ধিকরণ কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

এই দুই প্রকল্পের অবস্থা জেনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করতে তাগিদ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

May 2026
F S S M T W T
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031