মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে মাদক বিক্রী,ছবি তোলায় সংবাদকর্মীকে নির্যাতন
বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিস কার্যালয়ের অভ্যন্তরে মাদক বিক্রির সময় ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ফটো সাংবাদিক । মারধর করে এবং তার হাত থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে অফিস স্টাফরা ।
সংবাদকর্মীরা জানায়- করোনা দুর্যোগের কারণে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষিত থাকার পরেও বরিশাল মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিস কার্যালরে মুল ফটক আটকে অভ্যন্তরে বাড়তি মুল্যে মদ বিক্রি চলছিল।
এমন খবর পেয়ে বাংলাভিশনের ক্যামেরাম্যানসহ আরও দুটি বেসরকাটি টেলিভিশন চ্যানের সাংবাদিকেরা উপস্থিত হন। কিন্তু প্রবেশদ্বারটি বন্ধ থাকায় কামাল পাশের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং মদ বিক্রির ভিডিও ধারন করেন।
এতে ক্ষুব্ধ অফিস স্টাফ হাসিব, ড্রাইভার রাজনসহ ৫ থেকে জন কামালের ওপর হামলে পড়ে এবং তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা কামালের হাত থেকে ক্যামেরাটি নিয়ে অপর সংবাদকর্মীরা সেখানে দেয়াল টপকে পৌঁছানোর আগেই আছড়ে ভেঙে ফেলে।
শনিবার সকাল ১টার দিকে শহরের স্ব-রোডের এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ সংবাদকর্মীরা জোরালো প্রতিবাদ জানায় , পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় নেবার দাবি রাখে ।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে র্যাবের একটি টিম ও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মদের গোডাউন সিলগালা করে দেয় । বাংলাভিশন টেলিভিশনের বরিশাল অফিসের ক্যামেরাম্যান কামাল হাওলাদারকে মারধরের বিষয়টি অবহিত করে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দিয়ে বিচার চেয়েছেন।
বাংলাভিশনের বরিশাল অফিস প্রধান শাহীন হাসান জনতার সময় ডটকমকে জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকেরা বিষয়টি তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসককে অবহিত করে এবং বাইরে থেকে প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বিপুল সংখক সংবাদকর্মী সেখাটে ছুটে গিয়ে জোরালো প্রতিবাদের পাশাপাশি জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন। এরই মাঝে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও র্যাবের টিমটি এসে পরিবেশ পরিস্থিতি শান্ত করে। এবং সঙ্গে সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মদ মাটিতে ফেলে গোডাউনটি তালাবদ্ধ করে।
করোনা ভাইরাসের কারণে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি, কিন্তু এরপরেও কিভাবে মাদক বিক্রি হচ্ছে এবং তাও ৫০ টাকার মদ ৫ থেকে ৬ গুণ বাড়িয়ে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে এসময় কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক হাফিজুর রহমান।
নিশ্চিত হওয়া গেছে- পুরো বিষয়টি সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান অবগত হওয়ার পরে বাংলাভিশনের পক্ষে একটি অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, সংবাদকর্মীকে মারধরসহ পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। সেখান থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
এ ঘটনায় বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনিয়ম এবং বাংলাভিশনের ক্যামেরা ম্যানকে মারধর ও ক্যামেরা ভাংচুরের ঘটনায় আজ বরিশাল অঞ্চলিক ও জেলা কার্যালয়ের ২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন স্থালে বদলি করা হয়েছে।
