শতভাগ সততার সঙ্গে কাজ করব, সরকারের ‘আজ্ঞাবহ’ হব না: সিইসি
শতভাগ সততার সঙ্গে কাজ করবেন, সরকারের ‘আজ্ঞাবহ’ হয়ে কাজ করবেন না- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে সিইসি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
দেশের সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর আস্থা অর্জনের চেষ্টায় থাকা আউয়াল কমিশন ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে মতামত নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ (মঙ্গলবার) ৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি।
নির্বাচন ভবনে ইসির সম্মেলন কক্ষে বিকাল ৩টায় এ বৈঠক শুরু হয়। তবে এতে অংশ নেয়নি বিএনপিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দল।
আজকের সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলো হলা- ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
সংলাপে যায়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল।
আজকের সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা আমাদের দিক থেকে শতভাগ সততার সঙ্গে, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। আমরা যারা কমিশনে আছি, তারা সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কোনো কাজ করব না। সরকারও চাইবে না আমরা আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করি।’
ইভিএম নিয়ে মতভেদ কাটাতে রাজনৈতিক দলগুলোসহ সবার সহযোগিতা চেয়ে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে শতভাগ আস্থায় বিশ্বাস করি না। আপনি হারলে বলবেন উনি চোরামি করেছেন, উনি বলবেন আমি খুব সৎ। একই অবস্থাটা চলবে। এ একটা দ্বন্দ্ব সব সময় থেকে যাবেই।’
ইভিএমের কারিগরি দিক দেখাতেই রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ইসি। যাতে তাদের ইভিএমের ওপর ‘কারসাজির’ সন্দেহ দূর হয়। সংলাপে সিইসি বলেন, ‘ইভিএমের ওপর যেহেতু আপনাদের পুরোপুরি আস্থা আসছে না। আমরা আজকের আলোচনাটা আয়োজন করেছিলাম ব্যাপক কনসাল্টেশনের জন্য।আমরা জানি ইভিএম নিয়ে আপনাদের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। এটা থাকতেই পারে। আমরা এটা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি।’
‘ইভিএমে একজনের ভোট অন্যজনের দেওয়ার কোনো সুযোগই থাকবে না’ বলেও উপস্থিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন হাবিবুল আউয়াল।
গত ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ ওই দিন দেশের বেশ কিছু স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএমে কারসাজির কোনো ধরনের অভিযোগ না পাওয়ার কথাও সংলাপে তুলে ধরেন সিইসি।
নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে আপনাদের সন্দেহটা হলো- ভেতরে কেউ হয়ত অন্য চাপ দিয়ে দেবে। সেটা নিয়ন্ত্রণের জন্য কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে বিগত নির্বাচনে।
কুমিল্লা ছাড়াও ১৩৭টিতে ইভিএমে ভোটে কেউই কোনো প্রকার অভিযোগ করেনি। আস্থা না থাকার পেছনেও নিশ্চয়ই কারণ আছে। আস্থা একবার ভঙ্গ করলে তা পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে। এ সময়টা আমরা নিচ্ছি। তবে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, আমাদের কমিশন কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব করবে না, সঠিক কাজটি করবে।’
