ব্রেকিং নিউজঃ

আজ ২০২২-’২৩ অর্থবছরের ভাগ্য নির্ধারণ

আজ ২০২২-’২৩ অর্থবছরের ভাগ্য নির্ধারণের জাতীয় বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের ২২তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম এ বাজেট অধিবেশন বিকাল ৩টায় শুরু হবে।

জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ঘোষিত বাজেটেই আগামী এক বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সব আয়-ব্যয় চূড়ান্ত হবে।

কোভিড অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে আজকের বাজেট। গত দুবছর করোনা মহামারির কারণে থমকে ছিল সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

সেখান থেকে বেরিয়ে আগামী দিনগুলোয় উন্নয়নের গতিধারা ফিরে আসবে-এমন স্বপ্ন দেখছেন অর্থমন্ত্রী।

যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট এরই মধ্যে ঝুঁকিতে ফেলছে বিশ্বসহ দেশের অর্থনীতিকে। কঠিন মূল্যস্ফীতির চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাজ ফেলেছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। এটি এবারের বাজেটের চ্যালেঞ্জ।

নতুন বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। যা সর্বকালের সবচেয়ে বড় বাজেট। এটি বাস্তবায়ন করতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি (অনুদানসহ) বাজেট হবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, আর অনুদান ব্যতীত ঘাটতির অঙ্ক দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল নিজেও বলেছেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে তিনি চাপবোধ করছেন। তবে সবশ্রেণির মানুষ যাতে উপকৃত হন, সেভাবে তিনি বাজেট প্রণয়ন করছেন। ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্পোদ্যোক্তারা সবাই উপকৃত হবেন। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকবে না-এমন কিছু বাজেটে চাপিয়ে দেবেন না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণে থাকবে অর্থনীতি-এমন প্রত্যাশায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। গুরুত্ব দিতে ভোলেননি প্রবৃদ্ধিকে।

চলতি অর্থবছর থেকে বেশি অর্জন হবে-এমন আভাস দিয়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন ৭.৫ শতাংশ। তবে গত মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের পূর্ভাবাসে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের।

যদিও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির হারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার সময় মনে রাখতে হবে-প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হলো নাকি ৭ শতাংশ, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাথাব্যথা নেই।

দ্রব্যমূল্য নিয়েই তারা বেশিমাত্রায় উদ্বিগ্ন। এছাড়া অধিক মাত্রার মূল্যস্ফীতি দারিদ্র্য ও বৈষম্য বৃদ্ধি করবে। তাই ভারসাম্য রক্ষার সময় এ বছর মূল্যস্ফীতিকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণ ছাড়াও আটটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এগুলো হচ্ছে-ব্যাপক কর্মসৃজন ও পল্লি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অধিক খাদ্য উৎপাদন এবং সারের ভর্তুকি অব্যাহত রাখা।

এছাড়া স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বৃদ্ধি, নিম্ন আয়ের মানুষকে বিনা বা স্বল্পমূল্যে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি বাড়ানো। আর কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বাস্তবায়ন আরও সম্প্রসারণ করাও অগ্রাধিকার তালিকায় থাকছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

September 2026
F S S M T W T
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930