ব্রেকিং নিউজঃ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ তুলাতলী নদীর তীরে একটি প্রাচীন জনপদ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ  তুলাতলী নদীর তীরে একটি প্রাচীন জনপদ। উপজেলার প্রান কেন্দ্র কলসকাঠীতে, এখানে তের জমিদার, এক ভাষাসৈনিক এবং সব থেকে বেশী মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি বিজাড়িত ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত। বৃটিশ শাসন আমল থেকে এখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার প্রচলন।

১৮ শতকের শেষেরদিকে জমিদার জানকি বল্লভ রায় চৌধুরী কলসকাঠীর গোড়াপত্তন করেন। আগে এর নাম ছিল কলুসকাঠী; কলুসকাঠী অপভ্রষ্ট কলসকাঠী।

জানকী বল্লভ রায় চৌধুরী ছিলেন গারুড়িয়ার জমিদার রামাকান্তের পুত্র। জানকী বল্লভ রায় চৌধুরীরা ছিলেন দুই ভাই। বড় ভাই রাম বল্লভ।

জানকী বল্লভকে হত্যার চক্রান্ত করে রাম বল্লভ। জানকী বল্লভ তার বৌদির মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আধারে গারুড়িয়া ত্যাগ করে মুর্শিদাবাদ চলে যান।

সেখানে তিনি নবাবের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন এবং নবাব তাকে অরংপুর পরগনার জমিদার হিসেবে নিয়োগ করেন। যতদূর পর্যন্ত ভাটা তত দূর পর্যন্ত জানকী বল্লভের পাট্টা ছিল।

জমিদারী পেয়ে তিনি কলসকাঠীতে এসে বসতি স্থাপন করে। কলসকাঠীর তের জমিদার মূলত জানকী বল্লভের পরবর্তী বংশধর।

প্রায় তিনশ বছরের বেশি সময় ধরে কালের সাক্ষি হয়ে টিকে আছে এই জমিদার বাড়িগুলো। এই জমিদার বাড়ি এখনও শক্ত কাঠামো ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু এখন নিঃসন্দেহে সংস্কারের দাবি রাখে।

আসলে কলসকাঠীকে একটি পৃথক জমিদার বাড়ি না বলে, বলা যায় পূর্ণাঙ্গ একটি প্রাচীন শহর। এখানে জমিদার বাড়িগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে।

এখানে প্রতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে উৎযাপিত হয় ঐতিহ্যবাহী জগদ্বাত্রী পূজা। এ পূজাকে ঘিরে কলসকাঠী পরিণত হয় লাখো মানুষের মিলনমেলায়। দূর দুরান্তের গ্রাম-গঞ্জ থেকে এই পূজায় অংশ নিতে মানুষজন ছুটে আসে।

প্রাচীন জনপদের প্রচীন বাজার। শনিবার, মঙ্গলবার হচ্ছে বাজারের দিন। এখানে আরো আছে কুমোর পাড়া।মাটির তৈরি বিভিন্ন প্রকারের জিনিসপএের জন্যও বিখ্যাত কলসকাঠী।

কুমোর পাড়ার মানুষগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে মাটির জিনিসপত্র গুলো ছাঁচে ফেলে তৈরি, রোদে শুকানো আর আগুনে পুরিয়ে বাড়ির পাশে বেঁধে রাখা টলার ভর্তি করে বিভিন্ন স্থানে সরবারহ করার জন্য।

১৮৮২ সালে জমিদার বরদাকান্ত রায় চৌধুরী কলসকাঠী হাইস্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয় (কলসকাঠী বি.এম.একাডেমী ও কলসকাঠী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন।

কলসকাঠীতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা ছিল জমিদার আমল থেকেই। জমিদার আমলে কলকাতা থেকে নামাদামী ফুটবল খেলোয়ার আসত কলসকাঠী ফুটবল খেলতে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গান, নাটক ও যাত্রাপালা।

১৯০৮ সালে কলসকাঠীতে বান্ধব সমিতি গঠিত হয় এবং নরেন্দ্র রায় চৌধুরী শক্তি লাইব্রেরী তৈরি করেন। ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাম কৃষ্ণ মিশন।

১৯৩০ সালে ”লবন আইন” আমন্য আন্দোলনে অংশ গ্রহন করে কলসকাঠীর জনগন। কলসকাঠী থেকে ”লবন আইন” আমন্য আন্দোলনে যোগদানের জন্য কাথি অভিমুখে যাত্রা করেন শরবিন্দু মুখোপাধ্যায় (কষ্ট), কালীপদ মুখোপধ্যায়, মনোরঞ্জন দত্ত, মহেন্দ্র দত্ত, মহেন্দ্র দত্ত এবং মধুসুদন দত্ত।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার পর সকল জমিদার ভারতের পশ্চিম বঙ্গে চলে যান। শুধু মাত্র বিজয় রায় চৌধুরী ১৯৬৮ সালে চলে যান।

সংরক্ষণ আর আবহেলার কারনে কালের সাক্ষি হয়ে টিকে থাকা সব পুরনো জমিদার বাড়িগুলো আজ বিলুপ্তির পথে।কিন্তু খুব সহজেই সংরক্ষণ করলে কলসকাঠী হতে পারত একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে মানুষ স্বাদ পেত শতাধিক প্রাচীন এক পরিবেশের।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

May 2026
F S S M T W T
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031