ব্রেকিং নিউজঃ

করোনায় হুমকিতে পড়তে পারে বিশ্ব খাদ্য সরবরাহ

মহামারি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে চলমান লকডাউন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকিতে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি অঙ্গ সংস্থা।

গত মাসেই জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন- এফএও জানিয়েছিল, ‘সুপার মার্কেটগুলোর শেলফগুলোতে খাদ্যের মজুত আছে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য সরবরাহের জটিল শৃঙ্খল সংকটে পড়তে পারে; যেখানে কৃষকেরা, কৃষি উপকরণসমূহ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট, শিপিং, খুচরা বিক্রেতারা ও অন্যান্য বিষয়গুলো জড়িত।’

তবে চলমান পরিস্থিতিতে এখনো খাদ্য সংকট দেখা না দিলেও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্ব জুড়ে কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরও বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় সীমান্তপথগুলো বন্ধ করা হয়েছে, বন্ধ করা হয়েছে গাড়ি চলাচল। বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে শিপিং ও বিমান চলাচলেও। এসব কড়াকড়ি বিধিনিষেধের কারণে খাদ্য উৎপাদন চলমান রাখা ও বিশ্ব জুড়ে খাদ্য সরবরাহ করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে করে খাদ্যের উৎস কম দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানগুলো হাজার বিমান বসিয়ে রেখেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনেক বন্দর। তাতে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য পণ্যদ্রব্যের কন্টেইনার পড়ে আছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-আঙ্কটাড।

এমন অবস্থা চলতে থাকলে গরিব দেশগুলো তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি অন ওয়ার্ল্ড ফুড সিকিউরিটি (সিএফএস)। আসন্ন এই বিপর্যয় রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে অনেক বেসরকারি কোম্পানি ও সংগঠন।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বিজ্ঞানী, রাজনীতিক, নেসলে ও ইউনিলিভারের মতো কোম্পানি মিলে সম্মিলিত এক খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারি যাতে বৈশ্বিক খাদ্য ও মানবিক সংকটে রূপ না নেয় সেজন্য দেশগুলোর সরকার, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’

এদিকে, করোনাভাইরাসের এই সংকটে এরই মধ্যে খাদ্য-দ্রব্য রপ্তানি সমস্যায় পড়ার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দুই-তৃতীয়াংশই রপ্তানি করে থাকে, বেশির ভাগই পাঠানো হয় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে।

কিন্তু চলমান সংকটের কারণে জাহাজ ও বিমান চলাচল সীমিত থাকায় এসব দেশে খাদ্য-দ্রব্য রপ্তানি করতে পারছে না দেশটি। কৃষিজ পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না আরও অনেক দেশ। এতে করে হংকং, সিঙ্গাপুরসহ যেসব দেশের খাদ্য-দ্রব্যের উৎপাদন পর্যাপ্ত নয় করোনার মধ্যে সেসব দেশ এগিয়ে যাচ্ছে আরেক সংকটের দিকে।

খাদ্যের তীব্র সংকটে পড়তে পারে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোও। কেননা খাদ্য-দ্রব্যের ক্ষেত্রে এসব দেশ বহুলাংশেই রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

June 2026
F S S M T W T
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930