আজ সাংবাদিক রোজিনার জামিনের আদেশ

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিনের বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে আজ।

বৃহস্পতিবার জামিন শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহর ভার্চুয়াল আদালত আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

এদিকে রোজিনার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার সকালে সাংবাদিকদের পাঁচটি সংগঠন যৌথ বৈঠক করে।

সেখানে রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে তিন মন্ত্রীর সঙ্গে আজ সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনের সামনে প্রতীকী অনশন করেন নারী সাংবাদিকরা।

এ ছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করে ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল।

জামিনের আদেশ : সোমবার বেলা ৩টার দিকে রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। স্বাস্থ্য সচিবের পিএস সাইফুল ইসলামের কক্ষে ফাইল থেকে গোপন নথি সরানোর অভিযোগে তাকে আটকে রাখা হয়। ছয় ঘণ্টা পর শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করে রাতে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। রোজিনা ইসলামকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান সরদার। রোজিনা ইসলামের পক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। সেদিন শুনানি শেষে আদালত আজ আদেশের দিন ধার্য করেন। রোজিনা ইসলামের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এহেসানুল হক সমাজী, আশরাফুল আলম, আমিনুল গণি টিটো, প্রশান্ত কুমার কর্মকার ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আব্দুর রশিদ জামিন শুনানি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন।

সাংবাদিক সংগঠনের বৈঠক : ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদের সভাপতিত্বে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর বৈঠক হয়।

সেখান থেকে যৌথভাবে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার ও টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান উল্লিখিত তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তিসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে তিন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন সাংবাদিক নেতারা।

এরা হলেন-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ। প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আনিসুল হকের সঙ্গে।

সাজ্জাদ আলম খান আরও বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষার জন্য একটি আইন দরকার। সেই ধরনের আইন প্রণয়ন করার জন্য সভা থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

নারী সাংবাদিকদের প্রতীকী অনশন : রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনের সামনে শনিবার সকালে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন নারী সাংবাদিকরা।

নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের বাইরে রাজধানীতে কর্মরত নারী মিডিয়াকর্মীরা এই কর্মসূচি আয়োজন করেন। আজ রোজিনা ইসলামের জামিন আদেশ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।

প্রথম আলোর সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা এই কর্মসূচিতে সংহতি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফসহ অনেকে।

সোহরাব হাসান বলেন, আমরা যদি সব সংবাদপত্র, সব টেলিভিশন একসঙ্গে সরকারের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারতাম তাহলে সরকার ভয় পেত।

সরকার যে অবস্থান নিয়েছে-এই স্বৈরাচারী অবস্থান নিতে পারত না। প্রতীকী অনশনে আরও ছিলেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমন আরা হক মিনু, সাংবাদিক শামীমা দোলা, শাহনাজ শারমীন, রীতা নাহার, সাজিদা ইসলাম পারুল, রুমানা জামান, নার্গিস জুঁই, দৌলত আক্তার মালা, ফারহানা হক নীলা, মরিয়ম সেঁজুতি, ফারজানা আফরীন শরীফা বুলবুল প্রমুখ।

সাব-এডিটরস কাউন্সিল : রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি)। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও হেনস্তার ঘটনায় স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে শনিবার সকালে মানববন্ধনে এ দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। ডিএসইসি সভাপতি মামুন ফরাজীর সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক মনির আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম তপু, শহিদুল ইসলাম, কাদের গণি চৌধুরী, ডিএসইসি সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হৃদয়, ডিইউজের কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক খাইরুল আলম, ডিএসইসির সহসভাপতি আনজুমান আরা শিল্পী প্রমুখ।

মানববন্ধনে সংহতি জানায় বাংলাদেশ ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, ঢাকা সাংবাদিক পরিবার বহুমুখী সমিতি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

মানববন্ধনে মোল্লা জালাল বলেন, ‘আমরা আশা করি রোববার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়া হবে। তা না হলে নো রিটার্ন হোম আন্দোলন শুরু করা ছাড়া উপায় থাকবে না। আমাদের আর পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।’

মামুন ফরাজী বলেন, ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। সচিবালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যারা তাকে হেনস্তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ঘটনায় স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তা না হলে আমাদের আন্দোলন চলবেই।’ মানববন্ধনে সব ভেদাভেদ ভুলে অধিকার আদায়ে সাংবাদিকদের জাতীয় ঐক্যের তাগিদ দেওয়া হয়।

এছাড়া সাংবাদিক নিপীড়ন-নির্যাতনে ব্যবহার হওয়া সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ সব কালাকানুন বাতিলের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া রাজধানীর শাহবাগে শনিবার দুপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে নাগরিক সমাজ।

এতে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশকারীকে কারাগারে পাঠিয়েছে সরকার।

একই দাবিতে সমাবেশ করে গণজাগরণ মঞ্চের একাংশ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ নামের একটি সংগঠন।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ : ঢাবি প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা, তার বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শনিবার বিকালে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুনের সঞ্চালনায় ও সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাস্কর শিল্পী রাশা, সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইউজেড প্রিন্স প্রমুখ।

ছাত্র ইউনিয়ন : সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তি, দুর্নীতিবাজ আমলাদের বিচার, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও অফিশিয়াল সিক্রেসি আইন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন শনিবার এই মশাল মিছিল করে। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্য থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়ে শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে ফের রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মিখা পিরেগুর সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় নেতা জয় রায়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সহকারী সাধারণ সম্পাদক তামজিদ হায়দার চঞ্চল, কেন্দ্রীয় সংসদের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসু।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

June 2021
FSSMTWT
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930