প্রবাসী কর্মীরা ভোগান্তিতে
নোয়াখালীর মোক্তার হোসেনের ১৮ এপ্রিল সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। স্বাভাবিক সময় হলে তিনি এলাকা থেকে করোনা টেস্ট করে সরাসরি চলে যেতেন বিমানবন্দরে।
কিন্তু লকডাউনে বিশেষ ফ্লাইট হওয়ায় তাকে টিকিট রি-ইস্যু করতে ঢাকায় সৌদি এয়ারলাইনসের অফিসে আসতে হয়েছে। তিনি ফ্লাইট পেয়েছেন আরো দুদিন পর। উঠেছেন নারায়ণগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায়।
লকডাউনে ঢাকায় আসা, থাকার ব্যবস্থা করার দুর্ভোগের পাশাপাশি তাকে খরচ করতে হয়েছে অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা। শুধু মোক্তার নয়, বিশেষ ফ্লাইটে যাওয়া প্রায় সকল প্রবাসী এমন ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে।
লকডাউনে ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করায় প্রবাসী কর্মীদের কাজে ফেরার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরবর্তীসময়ে দাবির মুখে ৫টি দেশে ১২টি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের কর্মস্থলে ফেরার ব্যবস্থা করে সরকার। বিশেষ ফ্লাইটের কারণে কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হলেও ভোগান্তি বেড়েছে তাদের।
প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে লকডাউনে প্রবাসী কর্মীদের জন্য স্বাভাবিক ফ্লাইটের ব্যবস্থা রেখে সিদ্ধান্ত নিলে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, প্রথমত সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করা ভুল সিদ্ধান্ত। কোনো দেশ তো আমাদের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, আমরা সব বন্ধ করে দিলাম। এখন বিশেষ ফ্লাইট দিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে; কিন্তু সমন্বয় নেই।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৮৫টি ফ্লাইটে বিদেশ গিয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৫১ জন। ফেব্রুয়ারিতে ৮২৯টি ফ্লাইটে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৭৪ জন। মার্চে ১০৭৮টি ফ্লাইটে ২ লাখ ১ হাজার ১৫৬জন বিদেশে গিয়েছেন। অন্যদিকে জানুয়ারিতে দেশে এসেছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯৯ জন। ফেব্রুয়ারিতে এসেছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৭ জন। মার্চে দেশে এসেছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮০ জন।
কাতার প্রবাসী মোহাম্মদ ইকবাল শান্তর ভিসার মেয়াদ শেষ হয় ১৭ এপ্রিল। ১৪ এপ্রিল তার কাতারে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লকডাউনে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় তার ফেরত যাওয়া হয়নি।
এখন ভিসার মেয়াদ বাড়াতে না পারলে বেকার হতে হবে এই প্রবাসীকে। তিনি বলেন, ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারিতে দেশে এসেছি। নানা জটিলতায় কাজে ফিরতে পারিনি। এখন যখন সব ঠিকঠাক হলো, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়ে সব শেষ করে দিল।
