প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মৌলবাদী অপশক্তি রুখে দিন: এমপি বাবলা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সব শক্তিকে সম্মিলিতভাবে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তি বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের দাবিতে এবং সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণজাগরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে মানব-শৃঙ্খল কর্মসূচির আয়োজন করেন এমপি বাবলা।
এ সময় তিনি বলেন, বীর বাঙালি যখন মহান একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের শিল্প সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিরোধী গোষ্ঠী আবারো পবিত্র ধর্মকে অপব্যবহার করে একাত্তরের মতো ফণা তুলে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে ক্ষত-বিক্ষত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই ধর্মীয় উগ্রবাদী অপশক্তিকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্স স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ায় তুরস্ক সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় পার্টির কো- চেয়ারম্যান বলেন, যখন আমাদের দেশে একটি সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ গোষ্ঠী আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্সসহ বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে এমন ভাস্কর্স শিল্প ভাঙ্গার হুমকি দেয়, তখন তুরস্কের মতো একটি মুসলিম দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্স স্থাপনের ঘোষণা নিঃসন্দেহে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর মুখে চপেটাঘাতের শামিল। সেইদিন বেশি দূরে নয়, যে দিন গোটা দুনিয়ার স্বাধীনতাকামী মানুষের নেতা হিসেবে পুরো বিশ্বময় বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপিত হবে।
তিনি বলেন, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ইরাক, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিম প্রধান দেশে স্ব স্ব দেশের ঐতিহ্য ও জাতির পিতার প্রতিকৃতি আকারে শত শত ভাস্কর্স শিল্প স্থাপিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। কেউ যেন ভুলে না যায়, বাংলাদেশে ইসলামের ধারক-বাহক হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর হমান, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।
বাবলা বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু, ওআইসিতে বাংলাদেশকে অর্ন্তভুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছিলেন পল্লীবন্ধু এরশাদ। শুক্রবারে সরকারি ছুটি ঘোষণাও তিনি করেছিলে। ঢাকাকে যে মসজিদের নগরী বলা হয়, তার রূপকারও আমার প্রয়াত নেতা এরশাদ। আর আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে ইসলাম ও মুসলমানের জন্য নিবেদিতপ্রাণ তা সর্বজনস্বীকৃত ।
আবু হোসেন বাবলা আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিডের মতো মরণঘাতী বৈশ্বিক মহামারী সফলভাবে মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলছে ঠিকত তখনই একাত্তরের পরাজিত গোষ্ঠী বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতাকে উস্কে দেওয়ার অপচেষ্ঠার মধ্য দিয়ে ভাস্কর্স শিল্পের বিরোধিতার নামে দেশের শান্তিময় স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করছে।
এ সময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এমপি, ৪৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম, সংরক্ষিত কাউন্সিলর নাজমা খোকন, জাপা কেন্দ্রীয় নেতা সুজন দে, শেখ মাসুক রহমান, ইব্রাহীম মোল্লা, ডিকে সমীর, আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন গেসু, মাইনুদ্দিন চিশতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আওলাদ হোসেন, ফয়সাল চিশতী, ইন্দ্রজিত দাস, সুনিল টাইগারসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধনে সহাস্রাধিক নেতাকর্মীসহ এলাকার সর্বস্তরের লোকজন অংশ নেন।
