• আজঃ শনিবার, ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
  • English
ব্রেকিং নিউজঃ

সরকার হাততালি দিয়ে বলছে, ‘ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি’: আলাল

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আইন আগে থেকেই ছিল দাবি করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘তারা (সরকার) নিজেরাই হাততালি দিয়ে বলছে, ‘ধর্ষণে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি’।’

আলাল বলেন, ‘ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করেছে সরকার। এটাও একটা ভাওতাবাজি। একজন আইনজীবী হিসেবে বলি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরকার যে আইন করেছে ২০১৩ সালে এই আইনে ১২টি ধারার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড আইন আগেই ছিল। এরমধ্যে মাদক পাচার সংক্রান্ত ও এসিড নিক্ষেপ সংক্রান্ত পাঁচটি ধারা আগেই চলে গেছে। বাকি থাকে ৭টি। এই সাতটি ধারার সাথে আরেকটি ধারা যোগ করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আর তারা নিজেরাই হাততালি দিয়ে বলছে, মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি। অথচ এই নতুন সংযুক্ত ৮টি ধারায় মৃত্যুদণ্ড রয়েছে।’

শনিবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অন্ধকার দূর করে আলো আনতে পারলে আওয়ামী লীগ পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে আলাল বলেন, ‘প্রতারণা আর কতভা‌বে জাতির সাথে করা যায়। এর বিরুদ্ধে কথা বলতে যাবেন মামলা হয়ে যাবে, কথা বলতে যাবেন টাকা দিয়ে ভিপি নুরের দলের মতো দল ভাগ করে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘১০ টাকার ভাওতাবাজি এই সরকার প্রথম থেকেই শুরু করেছে। খেয়াল করে দেখেন এ সরকার ১০ টাকা কেজি চাউল খাওয়াবে বলেছে। আজ পর্যন্ত কেউ পায় নাই। খুঁজে দেখেন কেউ পায় নাই, একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া। তারপরে বলল ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেবে। কোনও কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছে? খুজে দেখেন পাবেন না। তারপরে ১০ টাকার আরাক ভাওতাবাজি কি, প্রধানমন্ত্রী কুর্মিটোলায় গিয়ে ১০ টাকার টিকিট কেটে নিজের চোখ দেখিয়েছেন। সেই ভাওতাবাজি করার পরে দৌড়ে চলে গেলেন লন্ডনে। এখানে একটা ভাওতাবাজি করেছে।’

‘এরপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি বললেন আমরা ১০ টাকার সিংগারা, সমুচা, চা খাওয়াই ছাত্রদের। এরপরে আরও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। ভিসি বললেন আমরা ১০ টাকা দি‌য়ে সেনিটারি ন্যাপকিন ছাত্রীদের দেই। কোথায় গেছে বাংলাদেশ? আমরা যাদের থেকে আলো আশা করি, তাদের কাছ থেকে আলো না অন্ধকার আসছে। এই অন্ধকার দূর করে যদি আলো আনা যায় তাহলে আওয়ামী লীগ পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।’

যুবদলের সাবেক সভাপতি বলেন, ‘ধর্ষণ এতো খারাপ এক‌টি শব্দ যে, আপনি আপনার পরিবারের সাথে কি আলাপ করতে পারেবেন? আজ আপনার ৫ বছরের শিশু যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করে ‘ধর্ষণ কি’, কেউ উত্তর দিতে পারবেন? কী উত্তর দিবেন আপনি? এই ধর্ষণ গত পরশুদিন হয়েছে আজও হয়েছে গতকাল হয়েছে। এটা প্রতিদিনই বাড়ছে। আর এর সাথে বেশিরভাগই জড়িত ক্ষমতাসীন  দলের নেতাকর্মীরা।’

আলাল আরও বলেন, ‘ধর্ষণের সংখ্যা কমে যেত যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে নারী নির্যাতনের বিচার হতো, যদি শেখ হাসিনার জনসভায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্তৃক নারী নির্যাতনের বিচার হতো। ৭ মার্চ জনসভায় যাওয়ার সময় রাস্তায় নারীদের যে নির্যাতন করেছে তার বিচার হলে ধর্ষণ আরও কমে যেতো। শিক্ষক পরিমলের যদি বিচার হতো, ঝালকাঠি যুবলীগের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যুবলীগ নেত্রী যে অভিযোগ করেছিল তার যদি বিচার হতো তাহলে এ অবস্থা দেখতে হতো না আজ।’

তিনি বলেন, ‘এগুলোর বিচার সরকার করে না, বরং এসব অপকর্ম সরকার উপভোগ করে। উপভোগ করে বলেই তাদের ছায়াতলে যারা আছে যারা তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়েছে তারা ভাবে- ‘বসরা করছে আমরা করবো না কেন’। তারাও তখন সমানতালে শুরু করে দেয়।’

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখানে আলো জ্বালানোর অনেক লোক আছে। আপনারা আলো দেন, অন্ধকার তাড়ানোর জন্য আমরা আছি।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চিকিৎসক ডাক্তার মো. আব্দুল কুদ্দুসসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর