• আজঃ সোমবার, ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
  • English
ব্রেকিং নিউজঃ

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো কেন বারবার সামরিক হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হয়?

এশিয়া, আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকার যেসব দেশের দীর্ঘ পরাধীনতার ইতিহাস আছে, কৃষিপ্রধান অর্থনীতিতে যেসব দেশের মাথাপিছু আয় তুলনামূলকভাবে বেশ কম, সাধারণভাবে সেই দেশগুলো মোটা দাগে তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে পরিচিত।

এসব দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ দুর্বল। অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের চেষ্টা করলেও সামাজিক ন্যায্যতার জায়গাটিতে রয়েছে অনেক পিছিয়ে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি বেশ সংকীর্ণ, ফলে বারবারই বাধাগ্রস্ত হয় নাগরিকদের রাজনৈতিক আর ন্যায্যতার অধিকার।

স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই এসব দেশ বিভিন্ন সময় সামরিক অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হয়েছে, কখনো দীর্ঘ সময়ের জন্য চলে গেছে সামরিক শাসনের অধীনে।

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে গত শতাব্দীতে লাতিন আমেরিকার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দেশ মুখোমুখি হয়েছে সামরিক শাসনের, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি দেশ প্রত্যক্ষ করেছে সামরিক অভ্যুত্থান।

বিংশ শতাব্দীতে স্বাধীনতা পাওয়া আফ্রিকার দেশগুলোও ব্যতিক্রম না, বিভিন্ন মোড়কে অর্ধেকের বেশি দেশে বিভিন্ন সময়ে চলেছে সামরিক শাসন।

প্রথম আর দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যখন গণতন্ত্রের জয়জয়কার চলছে, তখন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো কেন বারবার মুখোমুখি হচ্ছে সামরিক অভ্যুত্থানের? জনগণ থেকে ইউনিফর্ম পড়ুয়াদের নিয়ন্ত্রণে কেন বারবার চলে গেছে রাষ্ট্রকাঠামো?

রাজনৈতিক সংস্কৃতি

ফাইনার জাতিরাষ্ট্রের যুগে রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে চার ভাগে ভাগ করেছেন। পরিণত, বিকশিত, নিম্ন এবং সর্বনিম্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিম্ন, উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর রাজনৈতিক সংস্কৃতি সর্বনিম্ন।

সাধারণত, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলোর রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিণত বা বিকশিত। এগুলোতে রয়েছে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ।

কিন্তু অন্যদিকে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকশিত না হওয়ায়; শিক্ষা, বাক-স্বাধীনতা ও ন্যায্যতার নিশ্চয়তা না থাকায়, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর নাগরিকেরা রাজনৈতিকভাবে অসচেতন হয়। সহজে এদেরকে প্রভাবিত করা যায়। এই সংকীর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি সামরিক বাহিনীকে সুযোগ করে দেয় ক্ষমতা দখলের।

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর পলিসি তৈরিতে কাজ করে অনেকগুলো প্রেশার গ্রুপ। সরকারকে রক্ষা করতে হয় তাদের স্বার্থ।

এ রকম প্রেশার গ্রুপের নিয়মিত হস্তক্ষেপ সরকারের সাথে জনগণের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। জনমত চলে যায় সরকারের বিপক্ষে।

এমন অবস্থায় সামরিক বাহিনী মঞ্চে আবির্ভাবের সুযোগ পায়। সুযোগ পায় ক্ষমতা দখলের।

ক্ষমতায় আসার চিরস্থায়ী দ্বন্দ্বে অনেকসময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ছাড় দিতে না চাওয়ার মনোভাব থেকে সৃষ্টি হয় অস্থিতিশীলতার।

দলগুলোর মধ্যে এ রকম বিভাজন সুযোগ তৈরি করে দেয় উচ্চাভিলাষী সামরিক অফিসারদের। পাকিস্তানের ১৯৭৭ সালের সামরিক অভ্যুত্থান এমনই প্রেক্ষাপট থেকে তৈরি।

রাজনৈতিক কাঠামোতে কার্যকর সিভিল সোসাইটি না থাকাও তৃতীয় বিশ্বের বারবার সামরিক হস্তক্ষেপ আসার অন্যতম কারণ।

দরিদ্র তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রভাবশালী ভূমিকায় থাকে সম্পদশালী পরিবারগুলো। এ রকম প্রভাবশালী পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্বের সংস্কৃতিও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

যেমন- থাইল্যান্ডে একের পর এক সেনা অভ্যুত্থান হচ্ছে রাজপরিবারের সমর্থনে, প্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয় সিনাওয়ত্রা পরিবারকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

October 2020
FSSMTWT
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031