মালয়েশিয়ার রাজনীতির মাঠ উত্তাপ আবারও ঘটতে পারে ক্ষমতার পালাবদল!
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্ষমতাধর মুসলিম রাষ্ট্র মালয়েশিয়া। দেশটির রাজনীতির মাঠে ফের উত্তাপ বইছে। এ উত্তাপে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে পারে।
বিরোধী নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের কথায় তেমনটাই মনে হচ্ছে। নতুন সরকার গঠন করতে চান তিনি। সরকার গঠনে তার প্রতি রয়েছে এমপিদের শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন।
এ বিষয়ে তিনি রাজার সঙ্গে সাক্ষাত চেয়েছেন। রাজা যদি তাকে অনুমতি দেন, তাহলে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন।
তাতে ক্ষমতাসীন জোটের ভিতর থেকে জন্মনেয়া নতুন মুহিদ্দিন ইয়াসিন সরকারের পতন ঘটবে। বুধবার আনোয়ার ইব্রাহিম দাবি করেছেন তিনি সরকার গঠন করতে চান।
ক্ষমতা থেকে উড়িয়ে দিতে চান মুহিদ্দিন সরকারকে, যারা মাত্র ৭ মাস আগে জোটের ভিতর ষড়যন্ত্র করে মালয়েশিয়ার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেন। আর তাতে ২০১৮ সালের মে মাসে নির্বাচিত ড. মাহাথির মোহাম্মদ সরকারের পতন ঘটে।
তবে আনোয়ার ইব্রাহিমকে কতজন এমপি সমর্থন করছেন তিনি তা প্রকাশ করেন নি। তবে জানিয়েছেন, রাজার সঙ্গে সাক্ষাত চেয়েছেন।
এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। বলেছেন, তার প্রতি এমপিদের যে সমর্থন রয়েছে তাতে প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় শেষ হয়ে গেছে”।
আনোয়ার দাবি করেছেন, তিনি সরকার গঠন করলে তাতে সমর্থন থাকবে জনগণের। এদিকে আনোয়ার ইব্রাহীমের সংসদ সদস্যদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন থাকার দাবি প্রমাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন পিকেআর সভাপতি আনোয়ার ইব্রাহিমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন।
মহিউদ্দিন বলেন, এটি অবশ্যই ফেডারেল সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসারে করা উচিত। আনোয়ারের ঘোষণা কেবল একটি দাবি ।
প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন বলছেন, যতক্ষণ না আনোয়ার তার দাবি সমর্থন করার জন্য প্রমাণ হাজির না করেন, পেরিকাতান নেশনাল নেতৃত্বাধীন সরকার শক্ত এবং তিনি বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে রয়েছেন।
“মহিউদ্দিন জনগণকে এই পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে আনোয়ার ইব্রাহীমের ঘোষণায় সাবাহ নির্বাচনে ওয়ারিশান প্লাসের পক্ষে ভোট পাল্টে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, পিকেআর সভাপতি আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি ফেডারেল সরকার গঠনের পক্ষে তার যথেষ্ট সমর্থন আছে জানিয়ে যে ঘোষণা করেন তা ওয়ারিশান প্লাসের পক্ষে সাবাহ নির্বাচনে ভোট পাল্টে দিতে পারে।
ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহ’স রোমজি অ্যাটিগ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন সমর্থিত গাবুনগান রাকিয়াত সাবাহ (জিআরএস) রাজ্য নির্বাচনী প্রচারে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে আনোয়ারের দাবির ব্যপারে তিনি বলেন
ওয়ারিসান, উপকো, ডিএপি এবং পিকেআর সমন্বিত ওয়ারিসান প্লাস গঠিত হয় যা পেরিকাতান নেশনাল (পিএন), বরিশান নেশনাল (বিএন) এবং পিবিএস নিয়ে গঠিত জিআরএসকে ছাড়িয়ে যাবে।
“প্রকৃতপক্ষে (এটি রাজ্য নির্বাচনের উপর প্রভাব ফেলবে) যেহেতু সাবাহ ভোটাররা আর জিআরএসে আগ্রহী হবেন না। এখন পর্যন্ত ওয়ারিশান প্লাস সমর্থন পাচ্ছে।“
“এই সময়ে, জিআরএস মুহিউদ্দিনের কারণে সমর্থন পাচ্ছে বলে মনে মনে করছেন রোমজি অ্যাটিগ। “তবে তিনি বলেন যে আনোয়ারের সমর্থন যদি আমনো এবং পাসের সাংসদদের কাছ থেকে আসে তবে ওয়ারিশান প্লাসের অবস্থান বিপদে পড়তে পারে।
বিরোধী দলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম আজ ঘোষণা করেন যে নতুন সরকার গঠনের জন্য তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তিনি বলেছিলেন ইয়াং ডি-পার্টুয়ান আগোং তাকে সাক্ষাৎ প্রদান করার জন্য একমত হয়েছিলেন, যদিও সোমবার বাদশাহকে জাতীয় হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) ভর্তি করার পরে এটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে, সাবাহ ইউআইটিএম-এর টনি পরীদি বাগাং বলছেন, আনোয়ারের ঘোষণা অবাক করে দিয়েছে। বিশেষত সাবাহ রাজ্যের ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে।
“তবে এখনও পিকেআর এবং অন্যান্য ওয়ারিশান প্লাস দলগুলিতে কিছুটা সুবিধা পাবে কিনা তা বলা খুব কঠিন কারণ আনোয়ারের এই বক্তব্য প্রকাশ করার পর জনগণ (সাবাহ) তার প্রকৃত পরিণতি দেখতে চায়।
“যদি এটি ভোটগ্রহণের ঠিক আগের দিন হয়, তবে এটি ভোটদানের ধরণকে প্রভাবিত করবে।
