• আজঃ মঙ্গলবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
  • English
ব্রেকিং নিউজঃ

সীমাবদ্ধতা উত্তরণে ১৩ দফা সুপারিশ

সরকারি ক্রয়ে রাজনৈতিক প্রভাব, ই-জিপির সুফল মিলছে না

সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি’র প্রবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও কার্যাদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ, সিন্ডিকেট এখনও কেন্দ্রীয় ভ‚মিকা পালন করছে। পাশাপাশি কার্যাদেশ বিক্রি, অবৈধ সাব-কন্ট্রাক্ট, কাজ ভাগাভাগির কারণে কাজের মানের ওপর কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি বলছে, ম্যানুয়াল থেকে কারিগরি পর্যায়ে সরকারি ক্রয়ের উত্তরণ ঘটলেও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একাংশ দুর্নীতির নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে। দুর্নীতি হ্রাস ও কাজের মানোন্নয়নে ই-জিপির সুফল পাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটরদের মাধ্যমে ই-জিপি আইডি খোলা ও নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে।

সরকারি ক্রয়ে সুশাসন: বাংলাদেশে ই-জিপি’র কার্যকরতা পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে গতকাল আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ ধরণের তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একইসাথে, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা থেকে উত্তরণ এবং ই-জিপি’র কার্যকর সুফল পেতে ১৩ দফা সুপারিশ প্রদান করেছে সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। উল্লেখ্য, গত ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ই-জিপি’র প্রবর্তন হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম এর ফলে সরকারি ক্রয় খাতে সুশাসন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আশানুরূপ ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো ই-জিপি’র ফলে ক্ষেত্র বিশেষে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাজের মানন্নোয়নে এর কোনো প্রভাবই পড়েনি।

ই-জিপি ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং কার্যকরতার মতো তিনটি মৌলিক ক্ষেত্রেই অবস্থান উদ্বেগজনক। সার্বিকভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে। এর পেছনে মূলত রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আমাদের দেশে রাজনীতিকে সম্পদ বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার দৃষ্টান্ত রয়েছে। যা থেকে সরকারি ক্রয় খাতও মুক্ত নয়। ই-জিপি’কে রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ ও সিন্ডিকেটের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করতে সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও জনগুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

একইসাথে, সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ম মেনে অবশ্যই সম্পদ বিবরণ প্রকাশ করতে হবে। ব্যবস্থাপনায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে, সদিচ্ছা থাকলে তা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করি।

 

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

October 2020
FSSMTWT
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031