ওষুধ নয়, অনি*দ্রার সম*স্যা দূ*র করার ‘ম্যা*জি*ক’ উপায়
অনিদ্রার সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। তারপর আবার করোনাকাল। এই সময় অনেকেরই ঘরবন্দী জীবনের রুটিনে পরিবর্তন এসেছে। তাই ঘুমের সমস্যায় শুধু বড়রাই নয় বরং ছোটরাও ভুগছে।
ছোটরা তো ঘর অন্ধকার করলেই ঘুমিয়ে পড়বে তবে বড়দের কী হবে?
অনেকেই রয়েছেন ঘুমানোর জন্য ‘স্লিপিং পিল’ নিয়মিত সেবন করার অভ্যাস গড়ছেন।
তবে ঘুমের ওষুধের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
তাহলে উপায়? কিছু সাধারণ খাবারও হতে পারে আপনার ঘুমের ওষুধের বিকল্প।
এগুলোর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। তাই অনিদ্রার সমস্যার সমাধানের জন্য নির্ভয়ে এবং নির্বিঘ্নেই খেতে পারেন এই সব খাবার।
জেনে নিন তেমনই কিছু খাবারের সম্পর্কে, যেগুলো হতে পারে আপনার ঘুমের ওষুধের বিকল্প।
হালকা গরম দুধ অনায়াসেই ঘুমের ওষুধের বিকল্প হতে পারে।
অনেকেরই রাতের ঘুমে সমস্যা হয়। দুধে আছে ট্রাইপটোফান ও এমিনো অ্যাসিড, যা শরীরে ঘুমের আবেশ সৃষ্টি করে।
এছাড়াও দুধের ক্যালসিয়াম মস্তিষ্কে ট্রাইপটোফান ব্যবহারে সহায়তা করে।
এক গ্লাস দুধ খেলে আপনার মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায় এবং শরীর কিছুটা হলেও‘ শিথিল হয়ে আসে। ফলে ঘুম সহজেই চলে আসে।
কলা খেলে রাতে ভাল ঘুম হয়। কলাকে ঘুমের ওষুধের বিকল্পও বলা যেতে পারে। কলায় আছে ম্যাগনেসিয়াম যা মাংসপেশিকে শিথিল করে।
এছাড়াও কলা খেলে মেলাটোনিন ও সেরোটোনিন হরমোন নির্গত হয়ে শরীরে ঘুমের আবেশ নিয়ে আসে।
তাই যাদের ঘুম হয় না, তারা রাতের খাবারের সঙ্গে কলা রাখতে পারেন।
সিদ্ধ আলু বা রান্না করা আলু আপনার রাতের ঘুমের সহায়ক একটি খাবার হতে পারে।
আলু খেলে ট্রাইপটোফানের সাহায্যে হাই তোলায় ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী এসিড নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আপনার মস্তিষ্ক বেশ দ্রুতই আপনাকে ঘুমিয়ে পড়তে সহায়তা করতে পারে।
মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটার আছে যা মতিষ্ককে সচল রেখে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
রাতে ঘুমানোর আগে মধু খেলে মস্তিষ্কে গ্লুকোজ প্রবেশ করে এবং ওরেক্সিন উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কিছুক্ষণের জন্য। যা আপনাকে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সহায়তা করবে।
বাদাম রাতের ঘুমের জন্য আরেকটি উপকারী খাবার। যাদের রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয় তারা প্রতিদিন রাতের খাবারে ১০ থেকে ১২ টি বাদাম খেলে রাতের ঘুম ভালো হবে।
যারা ওজন সমস্যায় থাকেন তারা অনেকেই ওটমিল খেয়ে থাকেন। ওটমিলে আছে ঘুমে সহায়ক মেলাটোনিন।
তাই রাতের খাবার হিসেবে ওটমিল খেলে একদিকে আপনার ওজনটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, অন্য দিকে আপনার রাতের ঘুমটাও ভাল হবে।
