গুরুত্ব পাচ্ছে ভার্চ্যুয়াল প্রচার মাঠে নেই জো বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন প্রচারণায় মাঠ চষে বেড়ানো থেকে বিরত আছেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ভার্চ্যুয়াল প্রচারকেই তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন বেশি। নির্বাচনের আর প্রায় দুই মাস আছে।
এই সময়ে ঘরে বসে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কতটা ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন-এ নিয়ে বাইডেনের নিজের দলের মধ্যেই উৎকণ্ঠা শুরু হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনের আগে সফরে যাওয়া বা সমাবেশ করার কোনো কর্মসূচি জো বাইডেনের প্রচার শিবির থেকে জানানো হচ্ছে না।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন।
প্রচারের দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এগিয়ে থাকলেও জনমত জরিপে অবশ্য এখনো এগিয়ে আছেন জো বাইডেন। গত সপ্তাহে দলের কনভেনশন চলার সময়েও জো বাইডেন নিজের রাজ্য ডেলাওয়ার রাজ্যের উইলমিংটন শহর থেকে বেরিয়ে আসেননি।
যদিও তাঁর সমর্থনে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সফর করেছেন নির্বাচনের জন্য ঝুঁকির রাজ্য পেনসিলভানিয়া। ফিলাডেলফিয়া নগরী থেকে ওবামা তাঁর বক্তব্য দিয়েছেন।
ডেমোক্রেটিক দলের একাংশ মনে করেন, জো বাইডেনকেও বেরিয়ে আসা উচিত।
ডেমোক্রেটিক দলের রাজনৈতিক কৌশলবিদ ক্রিস্টি সেটজার বলেছেন, আমি নিশ্চিত নই এ কৌশল কতটা কাজ করবে।
করোনাভাইরাস নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া যেমন উচিত, তেমনি মাঠে নেমে প্রচারে যোগ দেওয়াও উচিত। তিনি আরও বলেন, এমন তো নয় যে, লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না।
করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। স্কুল খুলে দেওয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় ঘরে বসে নির্বাচনী প্রচার থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন এ উদারনৈতিক রাজনৈতিক কৌশলবিদ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রান্তিক রাজ্যগুলোতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম খুবই শক্তিশালী।
জাতীয়ভাবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি লোকজন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। গত সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক দলের কনভেনশনের সময়ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সফর করেছেন।
ওই সব রাজ্যের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি তিনি কথা বলেছেন। এসব করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্প ব্যাপক প্রচার পেয়েছেন।
প্রান্তিক জনগণের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছানোর জন্য এটি খুবই কার্যকর বলে প্রচার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এবারে ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনের মূল ভেন্যু ছিল উইসকনসিন রাজ্যে।
করোনা সংক্রমণের সতর্কতার জন্য এ কনভেনশনে সীমিত সংখ্যক লোকজন সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
বাকি কাজ ভার্চ্যুয়াল পরিসরে করা হয়েছে। উইসকনসিন রাজ্যের ডেমোক্র্যাটরাও মনে করেছিলেন, চার দিনের সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন একবারের জন্য হলেও তাঁদের রাজ্য সফর করবেন।
কিন্তু তা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে নগরকেন্দ্রে বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়। যেখানে লেখা ছিল, ‘জো কোথায়?’ অবশ্য এ রাজ্যের জনমত জরিপেও এগিয়ে আছেন বাইডেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সপ্তাহে সফর করেছেন উইসকনসিন, পেনসিলভানিয়া ও মিনেসোটা রাজ্য। এ সময়ে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা বিজ্ঞানকে অনুসরণ করব।’
ঘরে বসে ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিসকে নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, অবশ্যই পারব।
এ নিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের একজন অর্থ সংগ্রহকারী বলেছেন, এ কৌশলটি ভুল। তাঁকে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও সশরীরে প্রচারে থাকা উচিত।
ডেমোক্রেটিক দলের অপর কৌশলবিদ জুয়েল পাইন বলেছেন, জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা জো বাইডেন সশরীরে উপস্থিতি এড়িয়ে নির্বাচনে ভালো ফল করার আশা করতেই পারেন।
তবে নির্বাচন আরও ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মাঠে নামতে হবে। কনভেনশনের পর জো বাইডেনকে নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আরও ইতিবাচক মনোভাব বিরাজ করছে বলে ডেমোক্র্যাটরা মনে করেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকেরা মাস্ক পড়ার কোনো তোয়াক্কাই করেন না। তাঁরা সমাবেশ করছেন, ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন। করোনাভাইরাসকে ট্রাম্প সমর্থকেরা অনেকটা রাজনৈতিক দৃষ্টি দিয়ে দেখছেন।
সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতার হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় জো বাইডেনের প্রচার শিবির কৌশল পরিবর্তন করছে, যদিও এখনো তা প্রকাশ্য হয়ে ওঠেনি।
ডেমোক্রেটিক দলের মাঠের সমর্থকেরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন হোয়াইট হাউসসহ প্রশাসনকে ব্যবহার করে নানাভাবে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছেন।
ট্রাম্প সমর্থকেরা প্রান্তিক বিভিন্ন এলাকায় দরজায় দরজায় কড়া নাড়ছেন।
এর পাল্টা হিসেবে ফোনকল আর টেক্সট মেসেজের প্রচার দিয়ে ডেমোক্রেটিক দল নির্বাচনের প্রচারে কতটা সুবিধা করতে পারবে, এ নিয়ে প্রথাগত নির্বাচন কর্মীদের সংশয় রয়েছে।
এ/এন
