ডাক বিভাগের মহাপরিচালককে বরখাস্তের জন্য লিগ্যাল নোটিশ
করোনা পজিটিভ হওয়ার পরও গণভবনে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করা ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্র কে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করিয়া তদন্ত করার জন্য সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার।
শনিবার (২২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআর এর পরিচালক কে ইমেইল যোগে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গত ১৪ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকেট, ডাটা কার্ড উম্মোচনের উদ্বোধনী কাজে গণভবনে যান সুধাংশু শেখর ভদ্র।
সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনেক কাছাকাছি অবস্থান করেন। কিন্তু সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মুল) আইন ২০১৮ এর ২৬ ধারা অনুযায়ী তার কর্মকাণ্ড একটি অপরাধ এবং উক্ত আইন অনুযায়ী তিনি তার তথ্য গোপন করেছেন যাহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১২ ই আগস্ট আইইডিসিআর করোনা পরীক্ষার জন্য এসএস ভদ্রের নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় উক্ত রিপোর্ট তাকে প্রদান করা হয়েছে। যে রিপোর্ট অনুযায়ী তার করোনা পজিটিভ ছিল।
কিন্তু উক্ত রিপোর্টের তথ্য গোপন করে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। যাহা বেআইনি শুধু নয় বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি বহন করে।
যেহেতু আগস্ট মাস একটি শোকের মাস এই মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন বর্বরতম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বাংলাদেশকে নেতৃত্ব শুন্য করবার জন্য বারবার স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এই আগস্ট মাসকে বেছে নিয়ে থাকেন।
এমন একটি পরিস্থিতিতে একজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে দেশবাসীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
কেন এবং কোন উদ্দেশ্যে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন সেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জাতীয় স্বার্থেই প্রয়োজন।
একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকরী সেটাও নিয়ে ও প্রশ্ন উঠেছে এবং সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ।
এ কারণেই বিষয়টির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয় উল্লেখ করে এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করবার জন্য এবং এস এস ভদ্রকে ২০১৮ সালের আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
একই সাথে তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকে তার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়ে কোন কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিবাদীদেরকে উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। উক্ত সময়ের মধ্যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
