দেশের মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তাতেই মারা যাচ্ছে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে চিকিৎসা বৈষম্য ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রোববার (১৪ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে প্রথম থেকেই বিএনপির দাবি ছিল ‘দেশে মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার। প্রধানমন্ত্রী তার দলের মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, নেতা ও ভিআইপিদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছেন। তাদের জন্য দ্রুততার সঙ্গে সিএমএইচ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার, আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ সব সুবিধা নিশ্চিত করছেন।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তাতেই মারা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের কোনো খবর নিচ্ছেন না। কারণ, ক্ষমতার মসনদে থাকতে এখন আর সাধারণ মানুষের প্রয়োজন হয় না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুধুই ভিআইপি লাইভস ম্যাটার। গরীব মানুষের জীবন উপেক্ষিত।’
দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে উঠছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “সরকারের সীমিত টেস্টের লুকোচুরি করা ফলাফলেও শনাক্তের ৯৮তম দিনে এসে আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। মুখে ‘লকডাউন’ কাগজে-কলমে ‘সাধারণ ছুটি’, আবার কখনো কখনো কথিত ‘রেড জোন’, ‘ইয়োলো জোন’, ‘গ্রীন জোন’— এভাবে সরকারের একেকবার একেক ধরনের কথা পুরো পরিস্থিতিকে আরও ভঙ্গুর ও জটিল করে তুলেছে।”
সরকার নিজেও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছে না জানিয়ে বলেন, ‘অপ্রিয় বাস্তবতা হলো— সরকার নিজেও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছে না, কারও পরামর্শ কিংবা সহায়তাও নিচ্ছে না। কেউ সুপরামর্শ দিলে বা সহযোগিতা করতে চাইলে তাদেরকে কটাক্ষ করা মজ্জাগত হয়ে গেছে ক্ষমতাসীন মন্ত্রী-নেতাদের। দেশের মানুষের জীবন নিয়ে সরকারের এ ধরনের হেয়ালিপূর্ণ আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।’
রিজভী আরো বলেন, ‘ঢাকায় কোনো হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি নেই, কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনার ওয়ার্ড খুললেও আইসিইউ বেড ও চিকিৎসার জন্য গলাকাটা চার্জ নিচ্ছে। গত তিন মাসে করোনা উপসর্গ নিয়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে সিংহভাগ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা পাননি। বেঁচে থাকা অবস্থায় নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারেননি, তারা করোনা আক্রান্ত কি না।’
