বিক্ষোভের কারণে ‘ভয়াবহ’ বিপর্যয়ের মুখে যুক্তরাষ্ট্র
কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার কারণে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের এই মহামারির মধ্যে এখনো বিক্ষোভ চলছে দেশটিতে। বিক্ষোভে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।
রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করায় সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে দেশটি। এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় হবে বলে আজ সোমবার একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মতে করোনাভাইরাসের এই মহামারির মধ্যে বিক্ষোভ করার কারণে সামাজিক দূরত্ব না মেনে বহু মানুষ জমায়েত হওয়ার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আটলান্টার মেয়র কিয়াশা লেনস বোটমস গতকাল রোববার এক সংবাদ বিবৃতিতে বলেছেন, যারা গতকাল রাতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল তাদের প্রত্যেকের উচিত এই সপ্তাহের মধ্যে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, করোনাভাইরাস আফ্রিকান-এশিয়ানদের শরীরে বেশি শক্তিশালী। এতে আফ্রো-আমেরিকানদের মৃত্যু হার তুলনামূলক বেশি। আর এ বিক্ষোভের কারণে এই ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
উত্তর ক্যারোলিনা শার্লোটের অ্যাট্রিয়াম হেলথের মেডিকেল ডিরেক্টর ডাক্তার কেটি প্যাসারেটি বলেন, এই বিক্ষোভ কোভিড-১৯ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটা হৃদয় বিদারক।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ১০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েড নিশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলছেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’
করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৭ লাখের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে যা অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়াও বিশ্বের একমাত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ১৯৫ জনের।
