ব্রেকিং নিউজঃ

বিমানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হবে কীভাবে?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে একের পর এক বন্ধ করা হয় বিমান চলাচল। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন দেশ লকডাউন শিথিল করায় ও আটকেপড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে সীমিত পরিসরে চলছে বিমান চলাচল।

করোনাভাইরাস চলে গেলেও বিমান চলাচলে নানা ধরনের বিধি-নিষেধ তৈরি হবে তা অনেকটাই অনুমেয়। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানিয়েছেন, মে মাসের শেষদিক থেকে বিদেশ থেকে যে কেউই বিমানে করে যুক্তরাজ্যে এলে তাকে ১৫ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

জনসনের এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়, ব্রিটেনভিত্তিক এয়ারলাইন্সগুলোর সমিতি এয়ারলাইন্স ইউকে বলেছে, এটা হলে যাত্রী বিমানের ব্যবসা লাটে উঠবে। তাদের দাবি, ১৫ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হলে ব্রিটেনের দিকে কেউই পা মাড়াবে না।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হিথ্রোসহ ইউরোপের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে ইতিমধ্যেই নানা ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এসব বিমানবন্দরে বিমানযাত্রী এবং স্টাফদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। এসব জায়গায় ফেসমাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে বিমান চলাচল চালু করেছে ফ্রান্স। দেশটিতে প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ফেসমাস্ক এবং গ্লাভস ব্যবহার করতে বাধ্যমূলক করা হচ্ছে।

ব্রিটেনের ম্যানচেস্টার এবং স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা বিমানবন্দরের কর্মচারীদের জন্য ফেসমাস্ক এবং গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক করছেন। যাত্রীদেরও ফেসমাস্ক এবং গ্লাভস পরতে বলা হবে।

মার্চের শেষ থেকে ইজি জেটের বিমান উড়ছে না। তারা বলছে, সামজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে দুই যাত্রীর মাঝে একটি সিট খালি রাখতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, বিমানের ভেতরে সামাজিক দূরত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে?

এ নিয়ে এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছু কিছু এয়ারলাইন্স- যেমন, এমিরেটস, ইউরোপের ইজি জেট বা আমেরিকার ডেল্টা এয়ারলাইন্স বলছে তারা কিছুদিনের জন্য দুজন যাত্রীর মাঝে একটি সিটি খালি রাখতে প্রস্তুত। আয়ারল্যান্ডের বিমান সংস্থা এয়ার লিঙ্গাসও একই ইঙ্গিত দিয়েছে।

এসব বিমান কোম্পানি বলছে, সব দেশের সরকারের উচিত কিছুদিনের জন্য এই ব্যবস্থা যেন বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে সব এয়ারলাইন্স সেটা মানতে রাজি নয়।

ইউরোপে স্বল্প ভাড়ার যাত্রী বিমান খাতের অন্যতম জায়ান্ট রায়ান এয়ার জানিয়েছে, সিট খালি রাখার শর্ত চাপানো হলে তারা বিমান চালাবেই না।

রায়ান এয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও লিয়েরি বলেছেন, ‘এ ধরনের শর্ত হবে চরম বোকামি।’ ও লিয়েরির যুক্তি-মাঝের সিট খালি রাখলেই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হবে না, বরঞ্চ তাতে যাত্রী বিমান ব্যবসা অচল হয়ে পড়বে।

ইজি জেটের প্রধান নির্বাহী ইয়োহান লান্ডগ্রেন বলছেন, যাত্রীদের ভেতর ভরসা তৈরি করতে মাঝের একটি সিট খালি রাখা এখন সঙ্গত হবে।

তিনি মনে করেন, এমনিতেই অদূর ভবিষ্যতে ভয়েই মানুষজন বিমান ভ্রমণ করতে চাইবে না, যাত্রীর চাপ থাকবে কম। ফলে মাঝের সিট খালি রাখা কোনো সমস্যা হবে না।

এক সিট অন্তর অন্তর যাত্রী বসানো নিয়ে কোনো দেশের সরকারের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট করে কিছু শোনা যায়নি।

করোনাভাইরাস সামাল দিতে গত মার্চ থেকে একের পর এক দেশ লকডাউন জারি করা শুরু করার পর অর্থনীতির যেসব খাত সবচেয়ে বেশি হুমকিতে পড়েছে তার অন্যতম এভিয়েশন বা বিমান চলাচল।

জাতিসংঘের বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক সংস্থা আইসিএও বলছে, এ বছরের প্রথম নয় মাসে বিমান যাত্রীর সংখ্যা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ১২০ কোটি বা দুই-তৃতীয়াংশ কম হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

June 2026
F S S M T W T
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930