রংপুরের বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণের দাবিতে সড়কে সড়ক অবরোধ বিক্ষোভ মিছিল
রংপুরে জেলায় সরকারি ত্রাণ সহায়তার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে অনাহারী মানুষ খাদ্যের দাবিতে রংপুরের প্রধান প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে লালবাগ রেলওয়ের বস্তিবাসী।
সোমবার মিঠাপুকুর উপজেলা কার্যালয়ে অপরদিকে হারাগাছ ডিগ্রী কলেজের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। রংপুর মহানগরীর রেলগেট বন্ধ করে দেয় অনাহারী মানুষ । ফলে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বস্তিবাসীর দাবি, তাদের খাদ্য সরবরাহ না করা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে।এর আগে, সকাল ১০টা থেকে লালবাগ এলাকায় রেলগেট বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন রেললাইনের দুপাশে বসবাসকারীরা।
তারা জানান, ২০ দিন ধরে কর্মহীন থাকায় পরিবার নিয়ে অনাহারে মানবেতর দিন কাটছে তাদের। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলার পরেও তাদের খাদ্যের কোনও ব্যবস্থা হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা বিক্ষোভ করছেন।
এ ব্যাপারে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘আমরা করপোরেশনের পক্ষ থেকে লালবাগ বস্তির ৬৪০ পরিবারের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছি।
জেলা প্রশাসক আসিব আহসান আমার সঙ্গে ছিলেন। এটা করপোরেশনের নিজস্ব তহবিলের টাকা দিয়ে সাড়ে ছয় টন চাল কিনে দিয়েছি। সরকারিভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঁচশ’ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। যদিও এটা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’সোমবার দুপুরে অনাহারী মানুষ খাবারের দাবীতে মিঠাপুকুর উপজেলা কার্যালয়ে অবস্থান।
মিঠাপুকুরকেই প্রথম লক ডাউন করা হয়। দীর্ঘদিন অর্ধাহারে-অনাহারের পর এখন তারা বাইরে খাবারের খোঁজে এমনকি ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে। মিঠাপুকুর আয়তনেও দেশের একটি বৃহত্তর উপজেলা যার ইউনিয়ন সংখ্যা-১৭টি।
এখন পর্যন্ত সরকারী ত্রাণ পৌঁছেনি।সরকারী বরাদ্দ ত্রাণ কোথায় গেল কে দেখবে? হারাগাছ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মহীন, অসহায়, দুস্থসহ সহস্রাধিক বিড়ি শ্রমিক নারী-পুরুষ ত্রাণ সহায়তার দাবিতে ডিগ্রী কলেজের সামনে বানুপাড়া সড়কের দুইপাশে অবস্থান নেন।
বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, সরকার বা পৌরসভা থেকে দেওয়া কোনো ত্রাণ সহায়তা তাদের এলাকার মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। এমনকি ন্যায্যমূল্যের চাল, ডাল, আটাসহ নিত্য-পণ্য নিতেও তাদের অপরদিকে হারাগাছ ডিগ্রী কলেজের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা ।
এ ব্যাপারে হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, সড়কে মিছিল করা লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার সময় তাদেরকেও সড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে যেতে বলা হয়।
এ দিকে ত্রাণ বিতরণের ব্যাপারে হারাগাছ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোতাসসিম বিল্লাহ্ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
হারাগাছ পৌরসভার মেয়র হাকিবুর রহমান মাষ্টার জানান, সম্প্রতি হারাগাছ পৌর এলাকায় ৫ টন চাল ও ছয়শ’ খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এখানে ৫৬ হাজার লোকের বসবাস। যাদের ৮০ ভাগ বিড়ি শিল্প কারখানার সাথে জড়িত। তাদের বেশির ভাগই অসহায় দুস্থ ও কর্মহীন দিনমজুর। সরকারিভাবে এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা আসে নাই। একারণে সবখানে বিতরণ করাও সম্ভব হচ্ছে।
