ব্রেকিং নিউজঃ

ঘটনা ঘটলেই লোক দেখানো দৌড়ঝাঁপ কর্তৃপক্ষের

১০ বছরেও সরানো হয়নি রাসায়নিক গুদাম

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ১০ বছর পরও স্থানান্তর হয়নি পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম-কারখানা।

সেখানে রাসায়নিক গুদাম থেকে বেশ কয়েকটি আগুনের ঘটনায় অসংখ্য প্রাণ ঝরার পর এ নির্দেশনা এসেছিল। কিন্তু টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। এতে যা হওয়ার তাই হয়েছে।

শুক্রবার ফের ঘটল আরমানিটোলার কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ড। এতে ৪ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং হাসপাতালে আছেন ২০ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা দুর্যোগ হলেই তৎপর হয়ে ওঠে সরকারের সংশ্লিষ্টরা। শুরু হয় দৌড়াদৌড়ি-হুড়োহুড়ি। গঠন হয় নানা কমিটি ও কমিশন। একের পর এক সুপারিশ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই থেমে যায় সবকিছু। ঝুলে যায় সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ। এ যেন একটি ‘স্থায়ী সংস্কৃতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাদের আরও অভিমত, মানবসৃষ্ট এসব দুর্ঘটনা ও মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিক হিসাবে মেনে নিয়েছি। এটার অবহেলার দায়-দায়িত্ব চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটত। কিন্তু সেটা না করায় ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১০ বছর আগে পুরান ঢাকার ‘নিমতলী ট্র্যাজেডি’র পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা স্থানান্তরের নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু নানা প্রক্রিয়ার অজুহাতে স্থান নির্ধারণের পরও অদ্যাবধি স্থানান্তরিত হয়নি একটিও গুদাম বা কারাখানা। ওই সময় রাসায়নিক গুদাম থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মরেছিল ১২৪ জন।

এরপর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিমতলী থেকে এক কিলোমিটার দূরে চুড়িহাট্টায় ঘটে গেছে আরেকটি অগ্নিকাণ্ড। যেখানে মারা গিয়েছিল ৭৮ জন। সেটিও ঘটেছিল রাসায়নিক পদার্থ থেকে। এরপরও টনক নড়েনি কারও। ঢিমেতালে চলছে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা স্থানান্তর কার্যক্রম। তারা কেউ এখনো সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না-কবে নাগাদ সরানো হবে এসব কারখানা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম-সম্পাদক ও স্থপতি ইকবাল হাবিব যুগান্তরকে বলেন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা না সরানোয় বারবার যে দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, এটাকে ডাল-ভাত মনে করা হচ্ছে। করোনার মৃত্যুর মতো স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে। কিন্তু এটা তো তেমন বিষয় নয়। একটি পক্ষের অবহেলা ও অসতর্কতার কারণে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, এসব মৃত্যুর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। নিমতলীর ঘটনার পর গত ১০ বছরেও আমরা পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ করছি না। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও সেটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পুরান ঢাকার ১১-১৩ শতাংশ বাড়ির মালিক অতিমুনাফার লোভে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা ভাড়া দিচ্ছে।

আর সিটি করপোরেশন ভবনের ব্যবহার বিবেচনা করে ভাড়া নির্ধারণ করে।

এ দুটো জায়গায় বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। আবাসিক দেখিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে, নগর সংস্থা ওইসব ভবন মালিকদের দায়বদ্ধ করতে পারে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলী দুর্ঘটনার পর থেকে পুরান ঢাকার রাসায়নিক ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন এবং নতুন লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রেখেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

কিন্তু লাইসেন্স ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে চলছে রাসায়নিক ব্যবসা। বর্তমানে পুরান ঢাকায় প্রায় ২ হাজার রাসায়নিক গুদাম, কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

যাদের ট্রেড লাইসেন্স না থাকার পরও তারা দিব্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নিমতলীর ঘটনার পর অবৈধভাবে পরিচালিত এসব গুদাম-কারখানার পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ওইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিছুদিন পর পুনরায় পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ করে নিয়েছে। অনেকে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন।

বেশি টাকা ভাড়ার লোভে ভবন মালিকরা ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল-গুদাম, কারখানা ভাড়া দিচ্ছেন।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গুদাম ও কারখানার সাইনবোর্ড ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছেন পুরান ঢাকার এসব ব্যবসায়ী।

সরেজমিন ঘুরে ও ডিএসসিসির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরান ঢাকার ইসলামবাগ, চুড়িহাট্টা, চকবাজার, লালবাগ এলাকায় এখন সিংহভাগ কেমিক্যাল গুদাম ও কারখানা।

গতকাল ওইসব এলাকা ঘুরে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, আরমানিটোলার কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গা ঢাকা দিয়েছেন এ এলাকার ব্যবসায়ীরা। কয়েকদিন পর আবারও তাদরে সরব কার্যক্রম লক্ষ করা যাবে।

জানা যায়, গত বছর পুরান ঢাকায় কতটি রাসায়নিক গুদাম, কারখানা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তা খুঁজে বের করতে ৩টি টিম গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

ইতোমধ্যে ওই কমিটির সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন করে তালিকা প্রণয়ন করে সেটি জমা দিয়েছে।

পুরান ঢাকার জরিপ কাজের নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সম্প্রতি পুরান ঢাকা এলাকার কেমিক্যাল গুদাম-কারখানার তালিকা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে জমা দিয়েছে ডিএসিসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বছরের পর বছর ধরে চলছে পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরাতে নতুন নতুন কমিটি গঠন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা, নতুন করে নানাবিধ তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম।

চুড়িহাট্টার ঘটনার পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ৩১০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

কিন্তু ‘কচ্ছপ গতিতে’ চলছে এর অগ্রগতি। ইতোমধ্যে দুই বছর অতিবাহিত হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি হতাশাজনক।

মাটি ভরাট করেত সরকারের একটি বিশেষায়িত বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

কিছুদিনের মধ্যে কার্যাদেশ দেওয়া হবে ওই প্রতিষ্ঠানকে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হতে আরও অন্তত ২ বছর সময় লাগতে পারে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ওই প্রকল্প চালু হলে সেখানে পুরান ঢাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা স্থানান্তর করা যাবে।

বাকি কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলো কোথায় স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চিন্তা করেনি শিল্প মন্ত্রণালয়।

বিদ্যমান এ চিত্র বিশ্লেষণে ধারণা করা যায়, মুন্সীগঞ্জের? ‘কেমিক্যাল পল্লী’ তৈরি হলেও পুরান ঢাকার সব কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা স্থানান্তর হচ্ছে না।

এ কারণে আরও দীর্ঘ সময় পুরান ঢাকা কেমিক্যালের ঝুঁকির মুখে থাকছে, সেটা ধারণা করাই যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা সরাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে দুটি ছোট্ট কেমিক্যাল পল্লী করছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

এর একটি গাজীপুরের টঙ্গী এবং অন্যটি রাজধানীর শ্যামপুরে। টঙ্গীর ৫৩টির মধ্যে ৭টি ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে।

বাকিগুলো অল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তুত হবে। আর শ্যামপুরের ৫৪টি আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রস্তুত হবে। এরপর এ দুটি স্থানে পুরান ঢাকা থেকে ১০৭টি কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা স্থানান্তর করা হবে।

জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আলী আজম শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম, কারখানা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ‘বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ স্থাপন করা হচ্ছে।

জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন মাটি ভরাটের কাজ শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে নৌবাহিনীকে মাটি ভরাটের কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মাটি ভরাটের পর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সেখানে প্লট তৈরি করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম-কারখানার সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। আর আমরা মুন্সীগঞ্জে স্থানান্তর করতে পারব সর্বোচ্চ ৫-৬শ।

আর ১০৭টি টঙ্গী ও শ্যামপুরে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্থানান্তর করা হবে। এরপরও অন্তত ১৩শ কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা থাকবে। সেগুলো কোথায় স্থানান্তর হবে, সে বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে পরে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এমন হতে পারে, আমাদের অন্যান্য শিল্প প্রকল্পে এসব কেমিক্যাল গুদাম-কারখানাকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে বিস্ফোরক প্রতিরোধবিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সিনিয়র সচিব, সচিব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২২ সালের আগে পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে না। সে সময়ের আগপর্যন্ত সীমিত আকারে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রপরিষদ সচিব বলেন, পুরান ঢাকা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ।

সীমিত আকারে লাইসেন্স প্রদান করলেও পুনরায় নিমতলী ও চুড়িহাট্টার মতো দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সভায় উপস্থিত সবাই এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।

ওই সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলী দুর্ঘটনার পর থেকে পুরান ঢাকার রাসায়নিক ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করছে না ডিএসসিসি।

এ ছাড়া রাসায়নিক ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্সও প্রদান করছে না। আগের লাইসেন্সধারীরা এখনো ব্যবসা করে যাচ্ছেন। অথচ তাদের কাছ থেকে কোনো ফি আদায় করা যাচ্ছে না।

পুরান ঢাকার রাসায়নিক মজুতাগার ও কারখানাগুলো মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে এবং ঢাকার শ্যামপুর ও গাজীপুরের টঙ্গীতে ২০২২ সালের আগে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে না।

সামনের দুবছর পুরান ঢাকার রাসায়নিক ব্যবসায়ীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারিতে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পুরান ঢাকার বিদ্যমান রাসায়নিক গুদাম, কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে পর্যালোচনা ও বিস্ফোরকজাতীয় দ্রব্যের সঠিক নিয়ন্ত্রণ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়।

এটি অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তক্রমে ডিএসসিসি, বিস্ফোরক বিভাগসহ আমরা কয়েকটি সংস্থা মিলে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম-কারখানার একটি তালিকা তৈরি করেছি।

এখানে আমরা প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠান পেয়েছি। সে তালিকা আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছি।

এরপর এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সরকারের সিদ্ধান্ত এলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

তিনি বলেন, নিমতলীর ঘটনার পর থেকে ডিএসসিসি পুরান ঢাকার কোনো কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করছে না। সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না-দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্লাস্টিক প্যাকেজিং, রোল ম্যানুফ্যাকচারার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু মোতালেব শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা তো পুরান ঢাকা থেকে চলে যেতে চাই; কিন্তু এ ব্যাপারে তো সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করিছ না।

মুন্সীগঞ্জে কেমিক্যাল পল্লির কাজ শুরু হয়েছে। কবে শেষ হবে, সেটা অজানা।

বলা যায়, পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা স্থানান্তরে টেকসই কোনো কার্যক্রম দেখছি না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, পুরান ঢাকা থেকে আমরা কেমিক্যাল গুদাম সরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সে লক্ষ্যে সরকারও কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক ধাপে মুন্সীগঞ্জে বেশকিছু কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর হবে।

আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়কে বলেছি, দাহ্য বিবেচনা করে সেখানে বরাদ্দ দিতে। বাকিদের জন্যও চিন্তা-ভাবনা করতে পরামর্শ দিয়েছি।

সরকার কাজ করছে। আশা করি, ব্যবসায়ী ও সরকার মিলে কাজ করলে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল ১০ সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, শিল্প, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন।

ওই কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করে জানায়, পুরান ঢাকায় চার হাজারের বেশি রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।

২০১১ সালের ২০ জুলাই গঠিত কমিটি প্রতিবেদন আকারে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেয়।

ওই সুপারিশে বলা হয়, কেরানীগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর পাশে ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করে, সেখানে ৭ তলাবিশিষ্ট ১৭টি ভবন নির্মাণ করে তাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব।

এরপর ২০১৫ সালে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিসিক এক হাজার ৪১৮ কোটি টাকা খরচ করে।

ওইসব ভবন নির্মাণের পর রাসায়নিক ব্যবসায়ীরা নানা টালবাহানা করতে থাকে। পরে তারা জানান, তাদের প্লট দিতে হবে।

পরে তিনটি ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বিসিকের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

এর ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা খরচ করে ৩১০ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে বিসিক।

সেখানে আরও ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে মাটি ভরাট, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

July 2026
F S S M T W T
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31