ঢাকায় দুবাইগামী বিমানে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের হুমকি!
৯৯৯ কলসাইন নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই যাওয়ার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে বাংলাদেশ বিমানের ‘বিজি ৭৩৭’ ফ্লাইটটি। যাত্রীরাও উঠেছেন বিমানে।
এমনই এক সময় বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি ফোনকল আসে।
কন্ট্রোল টাওয়ারের কর্মকর্তারা সালাম দিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে ভারী পুরুষ কণ্ঠে বিপরীত প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘দুবাইগামী বিজি ৭৩৭ ফ্লাইটটিতে শক্তিশালী বোমা রাখা আছে।
যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটবে।’ একই সময় শাহজালালের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ তৌহিদুল আহসানের টেলিফোনেও এই হুমকি আসে।
নাম-পরিচয় না জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন হুমকিদাতা।
ফোনকল দুটি পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে এক্সিডেন্ট কমিটির কর্মকর্তারা কন্ট্রোল টাওয়ার ও শাহজালালের পরিচালককে বোমা হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যাক্টিভেট করুন ও সব ধরনের ইমার্জেন্সি অ্যাকশন শুরু করুন।’
তাৎক্ষণিকভাবে ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (ইওসি) কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা টাওয়ার এবং ফ্লোর চার্ট অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি জানানো হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, কুইক রেসপন্স ফোর্স, আর্মি, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বোমা হুমকির বিষয়টি অবহিত করা হয়।
জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় অনসি কমান্ডারের দায়িত্ব নেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ তৌহিদুল আহসান।
তার ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব নেন উইং কমান্ডার আজম। তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুরু হয় পরবর্তী কার্যক্রম। এদিন দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমনই এক দৃশ্যপটের অবতারণা হয়।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অপারেশন রুলস অনুযায়ী, প্রতি দুই বছরে নিরাপত্তা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে মহড়া করতে হয়।
সে অনুযায়ী শাহজালালের এক্সপোর্ট কার্গো অ্যাপ্রোন এরিয়ার ৮ নম্বর গেটের অদূরে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
