ইরান মাটির নিচে বিশাল পরমাণু শহর বানাচ্ছে!
বিশাল এলাকা নিয়ে মাটির নিচের পুনরায় পরমাণু প্লান্ট তৈরি করছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের পরমাণু পরীক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা।
জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, নতুন করে মাটির গভীরে পরমাণু প্লান্ট তৈরির কাজ শুরু করেছে ইরান।
ইউরেনিয়ামও জমাতে শুরু করেছে দেশটি। তবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির মতো ইউরেনিয়াম এখনো তাদের কাছে নেই।বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে ইরান।
২০০২ সালে প্রথম স্যাটেলাইট ইমেজে ইরানের পরমাণু শক্তিকেন্দ্রের বিষয়টি ধরা পড়ে।
পশ্চিমা বিশ্ব এটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ২০০৩ সালে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা ইরানের পরমাণু চুল্লি দেখতে যান।
তারা জানান, মাটি থেকে সাত দশমিক ছয় মিটার নিচে তৈরি করা হয়েছে ওই পরমাণুকেন্দ্র।
বিমান হামলাতেও যাতে কেন্দ্রটির কোনো ক্ষতি না হয়, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গোটা এলাকাজুড়ে রাখা হয়েছে অ্যান্টি এয়ারক্রাফট মিসাইল।
আরও পড়ুন : ইসলাম অবমাননা ইস্যুতে ভারতীয়রা কেন ফ্রান্সের পক্ষে? ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে কারণে ২০১৫ সালে পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব দেয় পশ্চিমা বিশ্ব।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক রাষ্ট্র চুক্তিতে ছিল।
সেখানে বলা হয়, পরমাণু গবেষণা করতে পারলেও ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরেনিয়ামের বেশি জমা করা যাবে না বলেও চুক্তিতে স্থির হয়।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরে সেই চুক্তি থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বহু জলঘোলা হয়।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বহু দেশ এখনও ওই চুক্তিতে থাকলেও বাস্তবে চুক্তিটির কার্যকারিতা নেই বললেই চলে।
কাশ্মীরকে পাকিস্তান থেকে নিয়ে ভারতকে উপহার দিল সৌদি! এরই মধ্যে গত জুলাই মাসে ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে আগুন লাগে।
কারও নাম না করলেও ইরান দাবি করে, চক্রান্ত করে আগুন লাগানো হয়েছিল।
এরপর পুনরায় তারা পরমাণুকেন্দ্র তৈরি করছে বলে তথ্য প্রকাশ করল জাতিসংঘ।
যা নিয়ে আবার আন্তর্জাতিক মহল উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করছে, গোপনে নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরি করছে ইরান। যদিও তার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।
সূত্র: দৈনিক অধিকার
