লাদাখে নিহত ভারতীয় সেনাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে চীনকে হুঁশিয়ারি পম্পেও’র
নয়াদিল্লিতে দাঁড়িয়ে চীনকে কড়া বার্তা দিল আমেরিকা। গালওয়ান উপত্যকায় বিগত কয়েকদিনে ভারত-চীন সেনার মধ্যে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ভারতীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।
এসময় ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব সময়ই ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির পাশে থাকবে বলে জোর দেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ৪ মে থেকে থেকে পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে চীন।
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় প্রচুর সেনা মোতায়েন করেছিল বেজিং। তার জেরে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সেনার মধ্যে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল।
তার পর দু’দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে সীমান্তে মোতায়েন সেনার সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই উত্তেজনা এখনও কমেনি।
গালওয়ান ইস্যুতেও হোয়াইট হাউস যে নয়াদিল্লির পাশেই রয়েছে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন আমেরিকার বিদেশ সচিব। দিল্লিতে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে গিয়ে গালওয়ানে নিহত ২০ ভারতীয়ে সেনা জওয়ান।
তাদের প্রতি এবারের সফরে শ্রদ্ধা জানান পম্পেও।
মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে একাধিক সামরিক বিষয়ে চুক্তি হয়েছে দুই দেশের।
প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা বাড়াতে টু প্লাস টু বৈঠকে যোগ দিতে সোমবারই ভারতে পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং সামরিক সচিব মার্ক এসপার।
করোনাভাইরাস নিয়েও চীনকে তোপ দেগেছেন পম্পেয়ো। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণার মুখে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে চিনের বিরুদ্ধে পম্পেয়োর এই বার্তা কূটনৈতিক দিক থেকে নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বৈঠকের পর পম্পেও বলেছেন, ”যে কোনো বিপদেই ভারতের সঙ্গে থাকবে অ্যামেরিকা।
সেই বিপদ চীনের কাছ থেকে বা অন্য কোনোভাবে আসতে পারে। অ্যামেরিকার মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হবে না। তারা ভারতের পাশেই থাকবে।
ভারতের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে অ্যামেরিকা সর্বদা ভারতের সঙ্গে আছে।” এভাবেই দিল্লি সফরে এসে চীনকে বার্তা দিলেন পম্পেও।
পম্পেও ভারতীয় প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, লাদাখ পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে অ্যামেরিকা। সীমান্তে সামরিক উত্তাপ মোকাবিলায় ভারতকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন বিদেশ সচিব বলেছেন, চীন স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, তাই বৈঠকে চীনের মোকাবিলা করা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান সময়ে অ্যামেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চীনের খারাপ সম্পর্ককে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
এশিয়া প্যাসিফিকে চীনের অসম শক্তিবৃদ্ধি এবং তাইওয়ান এবং হংকং নিয়ে চীনের মনোভাবের নিন্দা করছে অ্যামেরিকা এবং ইউরোপ। ভারত সেটিকেই কাজে লাগিয়েছে।
দক্ষিণ চীন সমুদ্র এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অ্যামেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে চীন বিরোধী ব্লক তৈরিতে মদত দিয়েছে ভারত।
নভেম্বরের গোড়ায় ভারতের উপকূলে মালাবার সমারিক মহড়া হওয়ার কথা। সেখানে নৌ মহড়ায় যোগ দেবে অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যামেরিকা। ফলে এই মুহূর্তে এশিয়ায় ভারতকেই শক্তিশালী বন্ধু বলে মনে করছে অ্যামেরিকা। কিছুদিন আগে ফ্রান্সও সে কথা জানিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে টু প্লাস টু বৈঠক অন্য মাত্রা পেয়ে গিয়েছে। নিয়মমাফিক বৈঠক হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই বৈঠকের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে।
যে ভাবে চীনের বিরুদ্ধে অ্যামেরিকা সরব হয়েছে এবং ভারতকে সামরিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাতে চীনের ওপরেই পরোক্ষে চাপ তৈরি করা হলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতীয় সেনার সাবেক লেফটন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ”এই বৈঠকের ফলে এশিয়া প্যাসিফিকে সামরিক এবং কূটনৈতিক ভাবে ভারত এবং মার্কিন সমঝোতা অনেকটা বৃদ্ধি পেল।
এশিয়া প্যাসিফিকে নৌ শক্তিতে চীন অত্যন্ত শক্তিশালী। পিএলএ স্থল সেনার চেয়ে পিএলএ নেভি কয়েক গুণ শক্তিশালী।
দক্ষিণ চীন সমুদ্রে সে কারণেই এত আগ্রাসী হতে পারে চীন। জোট বা ব্লক তৈরি করে অ্যামেরিকা সেখানেই চীনকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করছে।”
