বাংলাদেশে কী করোনার দ্বিতীয় আঘাত আসবে?
করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে না আসলেও জীবীকার তাগিদে বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও খুলে দেয়া হয়েছে অফিস আদালত। চাপ বেড়েছে বাজার ও রাস্তাঘাটেও। ঢাকায় আবারো শুরু হয়েছে জ্যাম।
কিন্তু যে কারণে দেশে সব কিছু বন্ধ রাখা হয়েছিলো সে করোনা ভাইরাস কি কমেছে? ইউরোপের অনেক দেশে সংক্রমণ কমার পর তা আবার বেড়ে গিয়েছিলো।
যাকে বলা হচ্ছে সংক্রমণের দ্বিতীয় আঘাত বা সেকেন্ড ওয়েভ। মূলত ভাইরাস সংক্রমণের হার কমে আবার বেড়ে গেলে তাকে সেকেন্ড ওয়েভ বলা হয়।
যে কোনো মহামারীর দুই তিনটি ওয়েভ থাকতে পারে। জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে স্কুল কলেজ খুলে দেবার পর বেড়ে যায় করোনা সংক্রমণের হার। মূলত এটিই হলো সংক্রমণের দ্বিতীয় আঘাত।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও কি এমনটা হতে পারে? করোনার প্রথম আঘাত শেষ না হওয়া নাগাদ তা স্পষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। আইইডিসিআরের মতে বাংলাদেশে সংক্রমণের প্রথম ধাপ এখনো শেষ হয়নি।
দেশে মার্চে সংক্রমণ শুরু হবার পর প্রতি মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ করে।
সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয়েছিলো মধ্য জুলাইয়ে। তবে কোরবানীর ঈদের পর তা কিছুটা কমে যায়। এরপর আবার বাড়তে শুরু করে।
আইইডিসিআর জানিয়েছে আগস্টের শেষের দিকে সংক্রমণ যেভাবে কমতে শুরু করেছে তা যদি আরো দু সপ্তাহ অব্যাহত থাকে তবেই ধরে নিতে হবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রথম আঘাত পার করেছে বাংলাদেশ।
এরপর বোঝা যাবে দ্বিতীয় আঘাত কবে আসবে বা কবে শুরু হয়েছে। হলেও সেটা কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
তবে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশে যেভাবে করোনা পরীক্ষা হয়েছে তাতে দেশে সত্যিকারের করোনা পরিস্থিতি কি তা নিয়ে কিছুটা সংশয় থেকেই যায়।
বর্ষাকাল গেলেই সামনে শীতকাল আসন্ন। শীতে যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যায় তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
যে সকল দেশে শীতে তাপমাত্রা শূন্য বা তার কাছাকাছি থাকে সে সকল দেশে করোনা আবারো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
তবে বাংলাদেশে ইউরোপের মত শীতকালে তাপমাত্রা ততটা কমে যায় না। তাই শীতকালে দেশে করোনার প্রকোপ অতটা বাড়বে না বলেই ধারণা আইইডিসিআরের।
