ইউএনও ওয়াহিদার অবস্থা আশঙ্কাজনক,নেই বিদেশে নেওয়ার সুযোগ
দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে দেশের বাইরে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।
তার অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত অপারেশনও করা যাবে না বলে জানিয়েছেন নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার ( ৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরো সার্জারির অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এ মুহূর্তে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
ইউএনও-এর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার রক্তচাপ ও পালস স্বাভাবিক না হলে অবস্থা আরও সংকটাপন্ন অবস্থা হবে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব সিদ্ধান্ত মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা মিলেই নিয়েছেন। পুরো টিম মিলে তাকে দেখেছেন, অবজারভেশনে রেখেছেন।
মেডিক্যাল বোর্ডে আছেন নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম, অধ্যাপক ডা. জহির, আইসিইউ কনসালটেন্ট ডা. উজ্জ্বল কুমার মল্লিক, অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ খান, অধ্যাপক ডা. মাহফুজ।
এই মুহূর্তে তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ডা. জাহিদ বলেন, তার ব্রেনে আঘাত লেগেছে। খুলি ভেঙে ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে। রক্তচাপ-পালসও ঠিকমতো নেই। উন্নতি হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।
এর আগে ওয়াহিদা খানমকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার যোগে রংপুর হতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
প্রসঙ্গত, বুধবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে হামলা করে দুর্বৃত্তরা।
গেটে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে তারা। পরে বাসার পেছনে গিয়ে মই দিয়ে উঠে ভেনটিলেটর দিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে হামলাকারীরা।
ভেতরে ঢুকে ভারি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে। মেয়েকে বাঁচাতে এলে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে (৭০) জখম করে।
তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
