২২ রো’গের সরাসরি ও’ষুধ হিসাবে কাজ করে কালোজিরা
মসলাপাতি রান্নায় যেমন অপরিহার্য, তেমনি ভেষজেও অনন্য। বিভিন্ন মসলার ভেষজ গুণ বিভিন্ন। এগুলো জেনে ব্যবহার করলে অনেক প্রকার রো’গের হাত থেকে সহজে রক্ষা পাওয়া যায়।
তেমনি কালোজিরা; বরং এটি মসলা কেন, সব ভেষজের সেরা। বলা হয়ে থাকে, কালোজিরায় মৃ’ত্যু ছাড়া সব রো’গের উপশম রয়েছে।
তাই কালোজিরাকে মসলার সাথে সাথে ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করে অল্প পয়সায় অনেক বেশি উপকার লাভ করা যায়।
কালোজিরা গুণে তি’ক্তরসধারী, উ’গ্র সুগন্ধযুক্ত, ক্ষুধা বৃ’দ্ধিকারক, পেটের বায়ুনাশক ও মূ’ত্রকারক। এটি উদরি বা ফুসফুসজনিত রো’গে উপকারী।
এ ছাড়া কৃমির উপদ্রব নিবারণের জন্যও এটি ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ কাশি ও জন্ডিসে এটি সেবনের কথা বলেন। ইউনানি মতে, এটি বিরেচক ও অর্শ্বে হিতকর।
তা ছাড়া প্রসূতীর দু’ধ বাড়ায় এটির ব্যবহার রয়েছে। এর ব্যবহারবিধি নিচে দেয়া হলো : ১.স্ত’ন্যস্বল্পতা : পেটে আম’দোষ থাকলে অথবা শ’রীরের রসধাতু শুকাতে থাকলে স্ত’ন্য কমে যায়।
এ সময় কালোজিরা সামান্য ভেজে গুঁড়ো করে ৫০০ মিলিগ্রাম হারে ৭-৮ চা চামচ দু’ধে মিশিয়ে ওই মাত্রায় সকালে ও বিকেলে সাত দিন ধরে খেলে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়।
২.মাসিক ঋতু : যেসব ম’হিলা অনিয়মিত অথবা স্বল্প অথবা অধিক স্রাবের জন্য ক’ষ্ট পেয়ে থাকেন, তাদের ঋতু হওয়ার পাঁচ-সাত দিন আগে থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম হারে সামান্য গরম এমন পানিসহ সকালে ও বিকেলে খেতে হয়।
তার পরও অসুবিধা থেকে গেলে পরপর ২-৩ মাস ওভাবে খেতে হবে।
৩.বাধক দোষ : এ দোষ হলে মে’য়েরা মা’নসিক ভারসাম্য হা’রিয়ে ফে’লে, কেউবা আত্মসু’খে তৎপর থাকে, কেউবা শূচীবায়ুগ্রস্ত হয়, কারো কারো দে’হটা স্থূল হয়ে যায় আবার কখনো বা তা হয় না।
আবার সবাই যে শুকিয়ে যাবে, তাও নয়। কিন্তু মনের ও’পর এ রো’গের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর ফলে কেউ কেউ কামজ উন্মাদ রো’গেও আ’ক্রান্ত হয়।
আবার এ দোষে কোনো কোনো ম’হিলা জননগ্রন্থির ক্রিয়াশ’ক্তি হা’রিয়ে ফে’লে। সেই সাথে আরো অনেক উপসর্গ এসে জোটে।
এ ক্ষেত্রে কালোজিরা সামান্য ভেজে নিয়ে গুঁড়ো করে সকালে ও সন্ধ্যায় ৭৫০ মিলিগ্রাম মাত্রায় খেতে হয় এবং তা মাসিকেও খেতে হবে। এভাবে ২-৩ মাস খেলে রো’গের উপশম হবে।
৪.গ’র্ভাশয়ের দ্বার সঙ্কোচন : প্রসবের পর কালোজিরার ক্বাথ খেলে গ’র্ভাশয়ের দ্বার সঙ্কুচিত হয় এবং সেই সাথে স্ত’ন্য বাড়ে।
৫.কক্টরজ ও ঋতুরোধ : অল্প মাত্রায় কালোজিরা মে’য়েদের ঋতুস্রাব বাড়ায়, ক’ষ্টরজ ও ঋতুরোধ অসু’খ সারায়। তবে বেশি মাত্রায় খেলে গ’র্ভস্রাব হয়।
৬.মাথায় য’ন্ত্রণা : কাঁচা সর্দি হয়ে মাথায় য’ন্ত্রণা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কালোজিরা পুঁটলিতে বেঁ’ধে শুঁকতে হবে। তবে পুঁটলিতে নেয়ার আগে তা রগড়ে নিতে হবে। তাতে গন্ধ বের হয় এবং উপকার হয়।তা ছাড়া সির্কাতে ভিজিয়ে শুঁকলেও মাথাব্য’থা সারে।
৭.মাথায় সর্দি বসা (শ্লেষ্মা বসে যাওয়া) : এ অবস্থায় কালোজিরা বেটে কপালে প্রলেপ দিলে ও মিহি গুঁড়োর নস্যি নিলে উপকার হয়।
৮.নতুন সর্দি : এ অবস্থায় কালোজিরার নস্যি নিলে উপকার মেলে।
৯.চুলকানি : কালোজিরা ভাজা তেল গায়ে মাখলে চুলকানিতে উপকার হয়। এতে ১০০ গ্রাম সরষের তেলে ২৫-৩০ গ্রাম কালোজিরা ভেজে সে তেল ছেঁকে নিয়ে ব্যবহার করতে হয়।
১০.বিছের হুলের জ্বা’লা : কালোজিরা বেটে তা লাগিয়ে দিলে অল্প সময় পরই হুলের জ্বা’লা কমে যায়।
১১.গ’লা ফোলা : সর্দি-কাসির দোষে গ্লান্ড ফুলেছে, সে ক্ষেত্রে কালোজিরা, চাল পোড়া, মুসাববর সমান পরিমাণে নিয়ে বেটে প্রলেপ দিলে এক দিনের মধ্যে ফোলা ও ব্য’থা উভ’য়ই উপশম হয়।
১২.শোথ : পানিতে কালোজিরা বেটে প্রলেপ দিলে হাত-পা ফোলাসহ সব শোথ কমে।
১৩.দাঁতের ব্য’থা : গরম পানিতে কালোজিরা নিয়ে তা দিয়ে কুলি করলে দাঁতের ব্য’থার উপশম হয়।
১৪.দাদ : কালোজিরা বেটে প্রলেপ দিলে এসবে উপকার হয়। তা ছাড়া ও’পরে উল্লিখিত চুলকানির নিয়মে দিলে আরো ভালো হয়।
১৫.ধবল : কালোজিরা বেটে প্রলেপ দিলে এসবে উপকার হয়। তা ছাড়া ও’পরে উল্লেখিত চুলকানির নিয়মে দিলে আরো ভালো হয়।
১৬.নতুন চুল গজানো : কালোজিরা বেটে নিয়ে মাথায় অনেক দিন ধরে মালিশ করলে নতুন চুল গজায়।
১৭.লাবণ্য : ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে মুখ উজ্জ্বল হয় ও রং ফর্সা হয়।
১৮.স’ন্তান প্রসব : কালোজিরা পানিতে সিদ্ধ করে খেলে স’ন্তানের প্রসব তাড়াতাড়ি হয়।
১৯.কৃমি : ভিনেগারে ভিজিয়ে কালোজিরা খেলে কৃমি ন’ষ্ট হয়।
২০.স্মৃ’তিভ্রংশ : স্মৃ’তিভ্রংশ ও স্মরণশ’ক্তির দু’র্বলতায় কালোজিরা খুব কার্যকর। ৩ গ্রাম কালোজিরা ২০ মিলিলিটার বিশুদ্ধ মধুসহ চাটলে এ রো’গ সারে।
২১.জন্ডিস, প্লীহাবৃ’দ্ধি, ২৩. শূল ব্য’থা, বুকের ব্য’থা, বমনেচ্ছা : কালোজিরা বেটে খেলে এসব রো’গ সারে। সেই সাথে বাটা গায়েও মালিশ করতে হয়।
২২.প্র’স্রাবের বাধকতা : পরিমাণমতো কালোজিরা খেলে প্র’স্রাব পরিষ্কার হয়ে যায়।
