রংপুরে প্রায় ৭০ শতাংশই হাসপাতাল-ক্লিনিকের নিবন্ধন নেই
রংপুর নগরীর অভিজাত এলাকা ধাপে অনুমোদনহিন দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারে জেলা প্রশাসন ও ডিবি পুলিশের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা এবং মৃত ডাক্তারের প্যাড ব্যাবহার করে রোগীদের ব্যবস্থা প্রদান করার অভিযোগে সোহেল রানা নামে এক ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে।
রংপুর মহানগরীর নগরির ধাপ এলাকায় মা-বাবা জেনারেল হাসপাতালে নামে একটি অনুমোদনহীন হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়াও স্পেসালাইজড হাসপাতালসহ ২ টি ক্লনিক হাসপাতালে জরিমানা করেছে প্রশাসন। স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিশৃঙ্খলা রোধে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নগরীর ধাপ এলাকার রংপুর স্পেশালাইজ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজারকে একমাসের কারাদন্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, পপুলার জেনারেল হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও মালিক মোখলেছুকে ৩ মাসের কারাদন্ড এবং মা বাবা জেনারেল হাসপাতালকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও মালিকেকে একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেয় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক আফরিন জাহান।
এসময় এই তিনটি হাসপাতাল সিলগালা করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। ছাড়াও প্রিন্স হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও কমফোর্ড হাসাপাতালে অভিযান পরিচালনা করে সতর্ক করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) আবু মারুফ হোসেন জানান, স্বাস্ব্যখাতের অরাজকতা বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ধাপ এলাকায় মা বাবা জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়গোনেষ্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ।
এ ঘটনায় রোগীদের পরীক্ষার রিপোর্টে যে চিকিৎকের সাক্ষর পাওয়া গেছে তিনি কিছুদিন আগেই মারা গেছে । এমন গুরুতর অভিযোগসহ হাসপতালটির কোন অনুমোদন নেই।
এ সময় পপুলার জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোখলেছু কে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়াও স্পেসালাইজড হাসপাতালসহ ২ টি ক্লনিকে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রংপুর সিভিল সার্জন ডা: হিরম্ব কুমার রায় বলেন, নগরীতে মাত্র ২শো ২৯ টি বেসরকারী ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়গোনেস্টিক সেন্টারের অনুমোদন থাকলেও নগরীতেই আছে সাড়ে পাচশো ক্লিনিক ডায়গোনেস্টিক সেন্টার।
রংপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট আফরিন জাহান জানিয়েছেন, তারা র্দীর্ঘদিন থেকে অনুমোদনবিহীন এবং ডায়াগনস্টিকের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করে রোগিদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিশৃঙ্খলা রোধে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
