বকেয়া বেতন বোনাসের দাবিতে
নারায়ণগঞ্জে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারী গার্মেন্ট শ্রমিকদের
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পুলিশ লাইন এলাকার রহমান গার্মেন্টস ও হাজীগঞ্জ এলাকার এইচ আর ফ্যাশনের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে পৃথকভাবে নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। রহমান গার্মেন্টসের পিসরেটে কর্মরত শ্রমিকরা এপ্রিল মাসের বেসিক মজুরি ও ঈদ বোনাস প্রদানের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও চাষাঢ়া শহীদ মিনারে সমাবেশ করে।
অন্যদিকে হাজীগঞ্জ এলাকার এইচ আর ফ্যাশনের শ্রমিকরা এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে চার দিন ধরে টানা আন্দোলন করে আসছে।
তাদের দাবি আদায় না হওয়ায় সোমবার সকাল দশটায় চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেছে। অবিলম্বে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাসসহ মে মাসের অর্ধেক মজুরী প্রদান না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারী দিয়েছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ দুটোতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রিয় নেতা দুলাল সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক জাগরণ মঞ্চের নেতা জাহাঙ্গীর আলম গোলক, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি আন্দোলনের জেলা কমিটির সভাপতি অঞ্জন দাস, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন- গার্মেন্টস মালিকরা করোনা বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস নিয়ে নানা রকম তালবাহানা শুরু করেছে।
করোনা দুর্যোগের মধ্যে শ্রমিকদের দায়িত্ব নেয়ার পরিবর্তে তারা শ্রমিকদের বেতন-বোনাস থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। করোনার মহাবিপর্যয়ের কারণে শ্রমিকরা বেতন না পাওয়ায় তাদের পকেটে কোন টাকা নেই, ঘরে খাবার নেই, আধপেটা খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। বেঁচে থাকার তাগিদে শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য মজুরি ও ঈদ বোনাস আদায়ের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন নামতে বাধ্য হয়েছে।
এই শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে বিকেএমইএ ও সরকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত শিল্প কারখানা সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
তা না হলে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস আদায়ে নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য গার্মেন্ট শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি আদায় করা হবে হবে। এতে কোন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায়দায়িত্ব মালিক ও সরকারকে নিতে হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা ও ঈদ বোনাসসহ মে মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধের আহ্বান জানান।
