ব্রেকিং নিউজঃ

রিজার্ভ চুরি তদন্তে সীমাহীন গাফিলতি হয়েছে: আইন উপদেষ্টা

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় তৎকালীন সরকারের সময় সীমাহীন গাফিলতির কথা উল্লেখ করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বর্তমানে এই ঘটনার পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। রোববার (১৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ব্যাপক গাফিলতি হয়েছে এবং তদন্তে নানা ত্রুটি ছিল।” এ সময় তিনি আরও জানান, কমিটি ইতোমধ্যেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং শিগগিরই তারা তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাত পরিচয়ের হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। যদিও পরে একে একে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ফেরত আনা সম্ভব হয়, তবে এখনো ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় ৩৯ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল থানায় মামলা করে, যা সিআইডি তদন্ত করে।

এ ঘটনায় পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চুরি হওয়া অর্থের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি এবং সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোর পর্যালোচনা করবে। কমিটির কাজের মধ্যে রয়েছে এই ঘটনার দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, চুরির পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে দুই বিলিয়ন ডলার চুরি করার। যদিও শেষ পর্যন্ত হ্যাকাররা ৮৮ মিলিয়ন ডলার চুরি করতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি বলেন, “এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনা ছিল, যেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।”

অধ্যাপক আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগে তৎকালীন সরকার অনীহা প্রকাশ করেছিল। তিনি বলেন, “যাদের নাম প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছিল, তাদের বিরুদ্ধে কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা জানতে হবে।”

কমিটির প্রধান হিসেবে আসিফ নজরুল আরও জানান, তিনি মনে করেন, এটি শুধু একটি রিজার্ভ চুরি নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করার একটি বড় পরিকল্পনা ছিল। কমিটির কাজ শেষ হতে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে, এবং এই সময়ের মধ্যে তারা সুপারিশ করবে।

এই তদন্তের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

April 2026
F S S M T W T
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930