ব্রেকিং নিউজঃ

পুতিনকে থামতে হবে : বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে ন্যাটো সম্মেলন। সামরিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর ৭৫তম বার্ষিকীতে জড়ো হয়েছেন বিশ্বনেতারা। আন্তর্জাতিক এই মহাসম্মেলনে এবার প্রধান ইস্যু ইউক্রেন।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত দেশটিকে সমর্থন দেওয়ার সব কার্যক্রম চলছে। আর্থিক ও মৌখিকভাবে কিয়েভকে সমর্থনে জড়ো হয়েছেন অন্যরা।

বুধবার সম্মেলনে ইউক্রেনকে ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

ন্যাটো সম্মেলনে এই সহায়তার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পরে নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া, ইতালি, জার্মানি এবং ইউক্রেনের নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেন।

আগামী মাসগুলোতে ইউক্রেনকে কয়েক ডজন কৌশলগত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করতে চায় তারা। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ইউক্রেনকে অতিরিক্ত কৌশলগত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিতে যাচ্ছি।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও রোমানিয়ার অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি; প্যাট্রিয়ট ব্যাটারিকে অপারেশনে সক্ষম করার জন্য নেদারল্যান্ডস ও অন্য অংশীদারদের দেওয়া প্যাট্রিয়ট উপাদান এবং ইতালির দেওয়া একটি অতিরিক্ত এসএএমপি সিস্টেম রয়েছে।’ এছাড়া রাশিয়ার আক্রমণের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে রক্ষার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

তিনি বলেন, ইউক্রেনই পারবে পুতিনকে থামাতে; আর তাই হবে। উদ্বোধনী বক্তব্যে জো বাইডেন বলেন, ‘পুতিন ইউক্রেনের সম্পূর্ণ ভূখণ্ড দখল করতে চান। ইউক্রেনকে মানচিত্র থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলতে চান তিনি। কিন্তু এটি কিছুতেই হতে দেওয়া যাবে না।

পুতিনকে ইউক্রেনই পারে থামাতে, আর তাই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাটোকে আগের চেয়ে শক্তিশালী করা হবে। কারণ ন্যাটো আমাদের আগের চেয়ে বেশি নিরাপদ রেখেছে। ন্যাটো না থাকলে কী হতে পারে, তা মার্কিনিরা ভালো করেই জানে।’

এদিকে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনে সহায়তা পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষা না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘সবাই নভেম্বরের অপেক্ষা করছে।

আমেরিকানরা নভেম্বরের অপেক্ষা করছেন, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, প্রশান্ত মহাসাগর, পুরো বিশ্বই নভেম্বরের দিকে তাকিয়ে আছে এবং সত্যি বলতে কী, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও নভেম্বরের অপেক্ষাই করছেন।’ এছাড়া ট্রাম্প নির্বাচিত হলে ইউক্রেনকেই সমর্থন করবেন বলে আশাবাদী তিনি।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পর্কে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি তাকে খুব ভালোভাবে চিনি না। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তার সঙ্গে কয়েকটি সুন্দর বৈঠক হয়েছে। তবে সেটি ছিল ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলা শুরুর আগে। তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে কী পদক্ষেপ নেবেন, তা বলতে পারছি না।

’ উল্লেখ্য, ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সাল থেকে দেশটিকে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সামরিক সহায়তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে গত শীতে টানা কয়েক মাস মার্কিন সামরিক সহায়তার একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে আটকে ছিল।

তখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, অস্ত্রের ঘাটতি যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়াকে এগিয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের স্টিংগার বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ডার দিয়েছে ন্যাটো। বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের নামে এই অর্ডার দিয়েছে জোটটি। মঙ্গলবার ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ এই তথ্য জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে। ওয়াশিংটনে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রতিরক্ষা শিল্পের নেতাদের সঙ্গে এক সমাবেশে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘আজই ন্যাটো প্রকিউরমেন্ট এজেন্সি (এনএসপিএ) প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্রের একটি নতুন বহুজাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

’ এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে সর্বশেষ স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য একটি চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনকারী আরটিএক্স করপোরেশনের রেথিয়ন ডিভিশন। তখন ইউক্রেনের জন্য ৬২৫ মিলিয়ন ডলারের বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি করে মার্কিন সেনাবাহিনী।

কাঁধে বহন করে চালাতে হয় এই স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্র। ইউক্রেনে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি ব্যবহার করে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনারা সফলভাবে আকাশপথে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করেছে।

প্রতিবেশী ইউরোপীয় দেশগুলোও আশঙ্কা করছে, তাদের রুশ বাহিনীকে পরাজিত করার জন্য এটির প্রয়োজন হতে পারে। আরটিএক্স-এর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, স্টিংগারের জন্য ন্যাটোর এই অর্ডার সরবরাহ করতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এর উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।

আলজাজিরা, এএফপি, রয়টার্স।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

June 2026
F S S M T W T
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930